স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত

23

করোনা দুর্যোগে পরিবহন ব্যবস্থায় যে সঙ্কট নেমে আসে তা এখনও কাটেনি। ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত করোনায় বিপর্যস্ত পুরো পরিবহন ব্যবস্থা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধিকে যথাযথভাবে মেনে চলা দুরূহ। প্রথম থেকেই দৃষ্টিকটুভাবে দৃশ্যমান হতে থাকে গণমানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আমলেই নিচ্ছে না। ফলে করোনা সংক্রমণও লাগামহীনভাবে অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ৩১ মে থেকে লাগাতার ছুটি শেষ হলে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান খুলে যায়। ক্রমান্বয়ে সীমিত আকারে ব্যবসা বাণিজ্যও চালু হতে থাকে। তেমন অবস্থায় নতুন করে সামনে এসে যায় যাত্রী পরিবহনের। তখন কিছু স্বাস্থ্যবিধি জুড়ে দেয়া হয়। সামাজিক দূরত্বকে আরও কঠোরভাবে পালন করতে গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা সিট অনুযায়ী অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। অর্থাৎ, দু’জনের সিটে বসতে পারবে একজন যাত্রী। সেই সুবাদে ৬০% ভাড়া বৃদ্ধিরও সুযোগ তৈরি হয়।
তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রায়ই অনুপস্থিত দেখা যায়। যেমন হাত দূষণমুক্ত করতে স্যানিটাইজার, মুখে মাস্ক পরা ইত্যাদি। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা ছাড়াও ভাড়া আদায়ে চলে ব্যাপক অনিয়ম। যাত্রীদের পক্ষ থেকে অভিযোগের কারণ ছাড়াও পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসায় সরকার পুনরায় ভাড়ার ব্যাপারটি ভাবতে থাকে। সঙ্গত কারণে সিটপ্রতি আগের ভাড়া নির্ধারণের নির্দেশনা আসে। এই আদেশে ‘যত আসন তত যাত্রী’ নেয়ারও সুপারিশ করা হয়। এক্ষেত্রে আপত্তি ওঠে ভাড়া আগের নিয়মে নিলেও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করার। ফলে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি কোনটাই তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। যা করোনা সংক্রমণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। বহুল সংক্রমণ এই রোগটি তার প্রকোপ কিছুটা কমালেও একেবারে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে এখনও আসেনি। ফলে গণপরিবহনে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আমলে নিতে ব্যর্থ হলে যাত্রীরা নতুন সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে। যাত্রীরাও কোন বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা করছে না। মালিকপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন তারা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দিয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সচেতন দায়বদ্ধতা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করা।