সোফিয়ার প্রেরণা সেরেনা

20

স্পোর্টস ডেস্ক :
বিশ্ব টেনিসের নতুন চমক সোফিয়া কেনিন। চলতি বছরেই বাজিমাত করেন আমেরিকান টেনিসের এই তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়। নতুন মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। স্প্যানিশ টেনিস তারকা গারবিন মুগুরুজাকে হারিয়ে মেলবোর্নের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন এই আমেরিকান তারকা। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর শিরোপা জয়েরও স্বাদ পান সোফিয়া কেনিন।
এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে ফেড কাপের কোর্ট ভাগাভাগি করেন কেনিন। সেই সময়েই সেরেনা কেনিনকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেন। বুকে জড়িয়ে নেন তাকে। আর এটা কেনিনের জন্য অনুপ্রেরণার। এ প্রসঙ্গে কেনিন বলেন, ‘আমার জন্য এই ব্যাপারটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। সেই প্রথমে আমাকে অভিনন্দন জানায়। বুকে টেনে নেয়। বলেন, ‘এটা দুর্দান্ত ব্যাপার ছিল। তোমাকে নিয়ে আমি খুব গর্বিত।’ তার কাছ থেকে এমনটা পাওয়া আমার জন্য অনেক কিছু। কেননা সে আমার আদর্শ।’ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পরের টুর্নামেন্টের হেরে যান সোফিয়া কেনিন। ২০১৭ সালের রোঁলা গ্যাঁরোর চ্যাম্পিয়ন জেলেনা ওস্টাপেঙ্কোর কাছে হেরে যান তিনি। এরপর মানসিকভাবে একটা ধাক্কা খান কেনিন। কিছুটা ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেন আমেরিকান তারকা। তখনই মানসকিভাবে শক্তিশালী হওয়ার জন্য কিছু পরামর্শ দেন সেরেনা উইলিয়ামস। এ প্রসঙ্গে কেনিন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর আমি কঠিন একটা ম্যাচে হেরে যাই। তখন তিনি দেখলেন আমি কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। ঠিক তখনই আমাকে বেশ ভাল কিছু কথা বলেন। তিনি বলেন, মনে রাখবে তুমি কেবলই গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছ। তাই চিন্তার কোন কারণ নেই। তোমার সবকিছুই ঠিক আছে।’
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র গ্র্যান্ডস্লামই হয়েছে। এরপরই যে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের মহামারি! যে কারণে ফ্রেঞ্চ ওপেন এবং ইউএস ওপেন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। আর উইম্বলডন তো ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে আর হচ্ছে না টেনিসের অন্যতম সেরা এবং ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম বাতিল হলো উইম্বলডন। যে কারণে চলতি মৌসুমে সোফিয়া কেনিন এদিক থেকে দারুণ সৌভাগ্যবান। কপাল পুড়েছে সেরেনার। উইম্বলডন না হওয়ার কারণে তার গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের সম্ভাবনা যে কমে গেছে!

তবে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বস্তিতে নেই সেরেনা উইলিয়ামস। ২ বছরের শিশু অলিম্পিয়াকে নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত সময় কাটছে সেরেনা উইলিয়ামসের। কেউ হাঁচি-কাশি দিলেই তিনি ভয় পেয়ে যান। সারাক্ষণই এক ধরনের শঙ্কায় থাকছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। সেই শঙ্কা, যেটি এখন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা দুনিয়াকেই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পৃথিবীব্যাপী ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থবির হয়ে গেছে সব কার্যক্রম। খেলার দুনিয়াও তো এর বাইরে নয়। বন্ধ হয়ে গেছে সব খেলা। নিজেদের বাড়িতে খেলার বড় বড় সব তারকারা এখন রীতিমতো বন্দী জীবনযাপন করছেন। কিন্তু করোনা শঙ্কা যেন পিছু ছাড়ছে না তাদের। সেরেনা যেমন, আশপাশের কেউ হাঁচি-কাশি দিলেই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
করোনার কারণে স্বেচ্ছাবন্দী রেখেছেন নিজেকে। সঙ্গে তার দুই বছরের সন্তানও। মূল শঙ্কাটা বাচ্চাটাকে নিয়েই। মায়ের মন তো! চারদিকে এত মৃত্যু, এত সংক্রমণ, সেরেনা বাচ্চা নিয়ে ঠিক থাকেন কীভাবে? সেরেনা জানান, ‘দুই সপ্তাহ হলো ঘরে বসে আছি। সঙ্গে আমার মেয়ে অলিম্পিয়া। কিন্তু মন থেকে শঙ্কা কিছুতেই দূর করতে পারছি না। বারবার মনে হচ্ছে, আমার বাচ্চাটা অসুস্থ হয়ে পড়বে না তো! বাচ্চাটার মধ্যে কোন সংক্রমণ হলো না তো!’ ২৩ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী এই তারকা আরও বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই চলছি। কিন্তু আমার সামনে যদি হাঁচি বা কাশি দিয়ে ফেলে, তাহলেই ভয় লাগে। আতঙ্ক বোধ করছি রীতিমতো। বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছি না। এমনকি ছোট্ট অলিম্পিয়া হাঁচি, কাশি দিলেও ওর দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছি। সে বুঝতে পারছে, মা রেগে যাচ্ছে, তখন খুব খারাপ লাগে।’