কর প্রদান পদ্ধতি

18

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে দেশব্যাপী আয়কর মেলার পরপরই শুরু হয়েছে ভ্যাট দিবস তথা সপ্তাহ। এই উপলক্ষে সরকারী প্রতিষ্ঠানটি নানা উদ্যোগ-আয়োজন করেছে, যার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে ভ্যাট দানে উৎসাহিত করা। এনবিআর কয়েক বছর আগে থেকেই নাগরিকদের কাছ থেকে ভ্যালু এ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) বা মূল্য সংযোজন কর চালু করার উদ্যোগ নিলেও প্রধানত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের অসহযোগিতা ও আন্দোলনের কারণে তা বাস্তবায়ন হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত এমনকি এক হারে অর্থাৎ অভিন্ন ভ্যাট নির্ধারণ তথা বাস্তবায়ন করাও সম্ভব হয়নি। বরং প্রচলন করা হয়েছে স্তরভিত্তিক ভ্যাট তথা মূসকের। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের সক্ষম শ্রেণীর অধিকাংশ যেমন আয়কর দিতে চান না, তেমনি ভ্যাট দিতে অনীহা প্রকাশ করেন একশ্রেণীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী। অথচ ভ্যাটের দায় গিয়ে বর্তায় সাধারণ নাগরিকের ওপর। যথাযথ ভ্যাট প্রদান কিন্তু নাগরিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধকরণ তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে মূসক বা ভ্যাটের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন এটা যেমন সত্যি, তেমনি আপনি-আমি সবাই কমবেশি ভ্যাট দিয়ে থাকি এটাও বাস্তব। এজন্যই ভ্যাটের অপর নাম ভোক্তা কর। ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে ভূমিকা পালন করে থাকে ভ্যাট সংগ্রাহকের। এর পাশাপাশি এও সত্যি যে, অনেক দোকানদার কিছুটা ঝামেলা ও প্রধানত ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থেকে ভোক্তা প্রদত্ত ভ্যাট জমা দেন না রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। অথচ তারা ভ্যাট ঠিকই আদায় করেন ভোক্তার কাছ থেকে। সেক্ষেত্রে ভোক্তার অবশ্য কর্তব্য হবে বিক্রেতার কাছ থেকে পাকা রসিদ আদায় করা, যা অবশ্যই দিতে হবে ইএফডি মেশিনে প্রিন্ট করে। এতে ভোক্তা কর সরাসরি জমা হবে এনবিআরের এ্যাকাউন্টে। আর দোকানদার যদি ইএফডি মেশিন ব্যবহার না করে অথবা ভুয়া চালান দেয় তাহলে বুঝতে হবে সে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে।
ভ্যাট প্রদানে দেশের বহু মানুষের অনীহা একটি সর্বজনস্বীকৃত বিষয়। এ অনীহার জন্য দায়ী কিছুটা আয়কর ব্যবস্থাও। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিও কম দায়ী নয়। সুনাগরিকরাও ভ্যাট প্রদানের বিদ্যমান পদ্ধতিতে অস্বস্তি বোধ করেন।
স্বীকার করতেই হবে, নাগরিকদের মধ্যে আয়কর দেয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তারপরও কর প্রদানের ব্যাপার জনগণের মধ্যে এখনও অনাগ্রহী হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা সঙ্গত। আয়কর বাড়ানোর জন্য এনবিআর এবং আয়করদাতাদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক জরুরী। প্রয়োজনে কর প্রদান পদ্ধতি আরও সহজ এবং যুগোপযোগী হলে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে, দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য যা হবে ইতিবাচক।