মালয়েশিয়া থেকে ৩২ হাজার অবৈধ কর্মী ফেরত পাঠানো শুরু

13

কাজিরবাজার ডেস্ক :
মালয়েশিয়া সরকারের ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশী ৩২ হাজার অবৈধ কর্মী দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। কিন্তু দেশটিতে সব এয়ারলাইন্সের টিকেটের চরম সঙ্কট চলছে। এ কারণে বিপুলসংখ্যক কর্মী দেশে ফেরত আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিমান মন্ত্রণালয়কে কয়েকদিন আগে অনুরোধ জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিমান মন্ত্রণালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বর মাসে অতিরিক্ত ১৬ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, মালয়েশিয়ায় সরকার অবৈধ কর্মীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ এই কর্মসূচীর নাম দিয়েছে ‘ব্যাক ফর গুড’। সাধারণ ক্ষমার আওতায় অবৈধ কর্মীরা সহজেই দেশে ফিরতে পারবেন।
সচিব বলেন, বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছেন, আবেদনকারী অবৈধ কর্মীর সংখ্যা ১২ হাজারের মতো হবে। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রাথমিকভাবে হাইকমিশন এমন একটি তথ্য দিয়েছে। এসব অবৈধ কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত আনতে বিমান মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। বিমান মন্ত্রণালয় আমাদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে ১৬টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে বলে জানিয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার কর্মসূচীটি ঘোষণা করার পরই ৩২ হাজারের বেশি বাংলাদেশী অবৈধ কর্মী দেশে ফেরার জন্য অনুমোদন পেয়েছেন। ব্যাক ফর গুড কর্মসূচী সফল করার জন্য মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতো ইন্দিরা খায়রুল দাজাইমি দাউদের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে অবৈধ কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ব্যাক ফর গুড কর্মসূচী সফল করার জন্য দেশটির ইমিগ্রেশন প্রধান দাতো খায়রুল দাজাইমি বলেছেন, এই কর্মসূচীর আওতায় ২৮ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি অবৈধ কর্মী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৩২ হাজার কর্মী দেশে ফেরার অনুমোদন পেয়েছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে এখনও যারা দেশে ফেরার অনুমতি পাননি এমন কর্মীদের অনুমোদন দিয়ে দেয়া হবে। বাংলাদেশের কর্মীরা কর্মসূচীতে ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। পরে যখন বৈধভাবে কর্মী নিয়োগ করা হবে তখন এসব কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও ইমিগ্রেশন প্রধান উল্লেখ করেন। বাংলাদেশীসহ অন্যান্য যে সমস্ত দেশের কর্মীরা অবৈধ অবস্থায় রয়েছেন তারাও মালয়েশিয়া সরকারের এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে দেশের মানুষের প্রতি বিমানের সব সময়ই একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান সেই দায়বদ্ধতা থেকেই দেশের মানুষ ও প্রবাসী শ্রমজীবী ভাই-বোনদের প্রতি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সরকার সে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশী অবৈধ কর্মীদের দেশে ফিরে আসার সুযোগ দেয়ার পর দেশটি থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী দেশে ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু সেখানে টিকেট সঙ্কট থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনা করে অবৈধ কর্মীদের দেশে ফেরত আনবে। যাতে এই কর্মীরা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে পারেন। অবৈধ কর্মীদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে।
এই সময়ের মধ্যে যদি কোন কর্মী দেশে ফিরতে না পারেন, তবে তাকে জেল জরিমানা পড়তে হবে। ফলে অনুমোদন প্রাপ্ত সব কর্মীই ৩১ ডিসেম্বরের আগেই দেশে ফিরতে চান। বিমানের বাইরে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সে বর্তমানে টিকেটের চরম সঙ্কট চলছে। এ অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিমান মন্ত্রণালয়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। বাড়তি ফ্লাইটে কর্মীদের দেশে ফেরত আনা হবে।