গুজব ছড়াচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল, হার্ডলাইনে সরকার ॥ কাউকে সন্দেহ হলে আইনের হাতে তুলে দেয়ার পরামর্শ ॥ সচেতনতা সৃষ্টিতে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন দল ॥ বন্ধ ৬০টি ফেসবুক আইডি, ২৫ ইউটিউব চ্যানেল ও ১০ অনলাইন পোর্টাল ॥ এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশ করার নির্দেশ

47

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সারাদেশে গুজব প্রতিরোধে হার্ডলাইনে সরকার। গুজবসৃষ্ট হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩১ মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ১০৩ জনকে। বন্ধ করা হয়েছে ৬০ ফেসবুক আইডি, ২৫ ইউটিউব চ্যানেল ও ১০ অনলাইন পোর্টাল। সামাজিক এই সঙ্কট সমাধানে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় গিয়ে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দলীয়ভাবে সভা-সমাবেশ করে সবাইকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মূলত নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত হত্যা ও গণপিটুনির শিকার কারো বিরুদ্ধেই ছেলেধরা প্রমাণিত হয়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। গুজবের বিরুদ্ধে আজ থেকে সচেতনতা সপ্তাহ পালন করা হবে পুলিশের পক্ষ থেকে। গুজব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথাও বলা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।
ছেলেধরা হিসেবে কাউকে সন্দেহ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই গুজব : প্রশ্ন হলো, কেন এই গুজব। কেনইবা সারাদেশে এত দ্রুত তা ছড়াল। সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগছে; এমন গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই এ ধরনের গণপিটুনির ঘটনা শুরু হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। যদিও সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমে পদ্মা সেতুতে মাথা লাগার বিষয়টি নিতান্তই গুজব বলে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যারা এই গুজব ফেসবুকে ছড়িয়েছিল তাদের কয়েকজন এখন পুলিশের কব্জায়। তবুও গুজবকে চেপে রাখা যায়নি। নির্দিষ্ট গন্ডি ছাপিয়ে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত গুজবের কারণ বা উৎসের সঠিক সন্ধান মেলেনি। তবে গুজবের ডালপালা ছড়াচ্ছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে এই খবরের বেশি বিস্তৃতি হয়েছে। যেখানেই ঘটনা ঘটছে তা দ্রুত ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই বাড়ছে আতঙ্ক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফেসবুকে ছড়ানো কোন ঘটনাই ছেলেধরা হিসেবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। মূলত সন্দেহ থেকেই হামলা, গণপিটুনি ও পুলিশে দেয়ার ঘটনাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
গ্রামে-গঞ্জে আতঙ্ক : নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাশিপুর গ্রামে সম্প্রতি এক শিশুসহ হাতেনাতে নারী ছেলেধরা ধরা পড়ার পর তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়। যদিও প্রকাশ্যে এই নারী ছেলেধরা বলছিলেন, ‘একজনকে ধরে ছেলেধরা প্রতিরোধ করা যাবে না। আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে আছি। কতজনকে তোমরা ধরবা। পুলিশে দিবা’। পুলিশের কাছে তার বাড়ি গাইবান্ধা বলে জানান। এর পর ঘটনার তেমন কোন অগ্রগতি নেই…তিনি প্রকৃত অর্থে ছেলেধরা কিনা এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কোন তথ্য মেলেনি।
দেশের সীমান্তবর্তী পূর্বাঞ্চলের এই জনপদের প্রতিটি গ্রামে এখন ছেলেধরা আতঙ্ক। সদর উপজেলার চার নং সিংহেরবাংলা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রামে গ্রামে ছেলেধরা রোধে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় পালাক্রমে এলাকা পাহারা দেয়া হচ্ছে। এই আতঙ্ক আর গুজবে রীতিমতো ঘি ঢেলেছে গত ১৮ জুলাই নেত্রকোনা জেলা শহরে পদ্মপুকুরপার এলাকায় এক ব্যক্তির ব্যাগে শিশুর মাথা পাওয়ার ঘটনা। এর পর ছেলেধরা সন্দেহে এই ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হয়। জেলা পুলিশের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
যখন দেশজুড়ে ছেলেধরা ও গলা কাটা আতঙ্ক ঠিক তখন নেত্রকোনার ঘটনায় মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ভয় রীতিমতো বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমের খবরে এখন পর্যন্ত ছেলেধরা সন্দেহে দেশে গণপিটুনিতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা শতাধিক। যদিও পুলিশ সদর দফতর থেকে বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ছেলেধরা আতঙ্কে গণপিটুনিতে মারা গেছে আটজন জন, আহতের সংখ্যা ৫০। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আহত ও নিহতের মধ্যে কেউই ছেলেধরা নয়। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহের বশে ছেলেধরা বলা হচ্ছে। সবাই গুজবে সামিল হয়ে হামলে পড়ছেন অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর।
পুলিশ, রাষ্ট্র-সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গণপিটুনি ফৌজদারি অপরাধ। কাউকে ছেলেধরা সন্দেহ হলে পুলিশে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, যারা এসব গুজব ছড়াচ্ছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গুজব সৃষ্টিকারীদের আইনের পরামর্শ দিয়ে তারা বলেছেন, সমাজে ন্যায়বিচার ও সচেতনতা সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। যখন ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা কমতে থাকে তখন মানুষ আইন হাতে তুলে নেয়। বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এতে সমাজে অস্থিরতা বাড়ে। তাই যে কোন মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ছয় মাসে গণপিটুনিতে ৩৬ জনের মুত্যু : মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) হিসেবে বলছে, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) সারা দেশে ৩৬ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। গত রবিবার পর্যন্ত আসক বলছে গণপিটুনিতে দেশজুড়ে ৪৭জনের মৃত্যু হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে গত ছয় মাসে যে ৩৬ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি, ১৭ জন। এ ছাড়া ঢাকায় নয়জন, খুলনায় পাঁচ, সিলেটে দুজন, বরিশালে দুজন এবং রাজশাহীতে একজন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই নারী, মানসিক রোগী, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধাসহ নিরীহ মানুষ গণপিটুনির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে রাজধানীর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গত শনিবার গণপিটুনির শিকার হয়ে জীবন দিতে হলো তাসলিমা বেগম রেনুকে। অথচ তিনি মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে তথ্য জানতে গিয়েছিলেন। তার এমন করুণ মৃত্যু মানুষকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তাসলিমার গণপিটুনির ঘটনার ভিডিও ছেড়েছেন। এতে দেখা যায়, একজন নীরিহ নারীকে নির্মমভাবে মাটিতে ফেলে পেটানো হচ্ছে। যে যা পাচ্ছেন তা দিয়েই তাকে আঘাত করা হচ্ছে। আঘাতের নির্মমতায় আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যান তাসলিমা। বন্ধ হয়ে আসে চোখ। হয়ত মৃত্যুর আগে বার বার বলার চেষ্টা করেছেন, আমি ছেলেধরা নই। আমাকে এভাবে মারতে পারলে তোমরা…? ছেলেধরা গুজবের শিকার তাসলিমার মেয়ে তুবা এখন নির্বাক। অসহায়।
এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ওই দিন রাতে সাভারের অজ্ঞাত আরেক নারী গণপিটুনিতে নিহত হন। রবিবার নওগাঁর মান্দায় পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছেলেধরার গুজব রটিয়ে ছয়জনকে গণপিটুনি দেয়া হয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের দেউরাছড়িয়ায় এক যুবককে আটক করে উত্তেজিত জনগণ মারধর করে। পরে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
একই সন্দেহে আরেকটি হত্যার ঘটনার খবর মেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। সেখানেও এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া গাজীপুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীসহ বিভিন্ন জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তাহীনতায় মানসিক অবসাদে সহিংসতা : মনোরোগবিদ মেহতাব খানম এই গণপিটুনির মানসিক প্রবণতাকে ‘মব সাইকোলজি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, যখন একটি সমাজে নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় তখন তারা এক ধরনের মানসিক অবসাদে ভোগে। সে থেকেই মানুষের মধ্যে এ ধরনের সহিংসতা দেখা দেয়।
তিনি বলেন, মানুষ ইদানীং ছেলেধরার অনেক খবর পড়ছে, দেখছে। তো এই বিষয়টা তার মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। এ ব্যাপারে যখন সে কোন সহায়তা পাচ্ছে না তখন তার মধ্যে মানসিক অবসাদ তৈরি হয়। তখন মানুষ পেটাতে দেখলে সে তার ওই বেসিক ধারণা থেকে ক্রোধ বা রাগ ঝাড়তে নিজেও সহিংস হয়ে ওঠে। মব সাইকোলজির বৈশিষ্ট্য হলো, যারা গণপিটুনি দেয়, তাদের উচিত-অনুচিত বোঝার মতো বিবেক কাজ করে না। কেউ সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করে না। তারা জানতেও চায় না কি কারণে মারামারি হচ্ছে। তারা তাৎক্ষণিক সেখানে অংশ নিয়ে তাদের ক্রোধের বহির্প্রকাশ ঘটায়।
গণপিটুনিকে ফৌজদারি অপরাধ ও অপপ্রচারকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেবেন না। কাউকে ছেলেধরা সন্দেহ হলে তাকে ধরে পুলিশে দিন। পুলিশ তদন্ত করবে, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, আমরা গুজবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যারা মানুষের ওপর সন্দেহের বশবর্তী হয়ে হামলা করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
নানা কারণে মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে : মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, নানা কারণে মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। আবার অপরাধীদের বিচারও ঠিকঠাক হচ্ছে না। মূলত এ কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজীব নন্দী বাংলাদেশ ও ভারতে গণপিটুনির বিষয়ে একটি গবেষণা করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীই বেশি গণপিটুনির শিকার হচ্ছে। তিনি বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতির শহরে ছোটখাটো ঘটনায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটলেও নিম্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এমন ঘটনা বেশি হয়। যেমন নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত উপজেলায় গণপিটুনির প্রবণতা বেশি। শিক্ষক রাজীব নন্দীর গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতে গত ১০ বছরে চাঞ্চল্যকর ২০টি গণপিটুনির কোন বিচার হয়নি এবং সঠিক তদন্তও হয়নি। এর মধ্যে আমিনবাজারের গণপিটুনিসহ বাংলাদেশের ঘটনা সাতটি।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিদ্যা ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক। তিনি বলেন, এ জাতীয় ঘটনায় দেখা যায়, মানুষ কোন বিষয়ে প্রাক্-মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এর পর কোন ঘটনায় সন্দেহ বা আতঙ্কগ্রস্ত হলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেয়া হচ্ছে। যারা এসব ঘটনা ঘটায়, তখন তাদের মধ্যে বিচারবোধ কাজ করে না। এ জন্য সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে সবার আগে। আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছে। কোন বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করছে না। আরেকটি বিষয় হলো অপরাধ হচ্ছে, কিন্তু অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, শাস্তি হয় না এমন একটি ধারণাও কিছু মানুষের মধ্যে ঢুকেছে। এসব কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। এসব থেকে উত্তরণের উপায় কী? কাজী রিয়াজুল হক বলেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
দায়িত্বশীলরা যা বলেন : এদিকে গুজব প্রতিরোধে হার্ডলাইনে সরকার। গুজব রটিয়ে গণপিটুনির ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দলীয়ভাবে সভা-সমাবেশ করে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এছাড়া সংসদ সদস্যদেরও তাদের এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে চীফ হুইপের মাধ্যমে।
দেশে গুজবের হুজুগ নতুন নয় মন্তব্য করে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিষয় কিনা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। পিটিয়ে হত্যার ভিডিও দেখে দেখে গ্রেফতার চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।