মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন আজ

119

কাজিরবাজার ডেস্ক :
নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন আজ। এ লক্ষ্যে দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যা সাতটায় তাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এ শপথ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী ও সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মোদি ও অমিত শাহ। এছাড়া মমতা বন্দোপাধ্যায় শেষ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত বদল করে মোদির শপথ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ করবেন নরেন্দ্র মোদি। তার আগে মঙ্গলবার পাঁচ ঘণ্টা ধরে দলের সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার জন্য মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করতেই এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন তারা। মোদির মন্ত্রিসভায় অমিত শাহ যোগ দিতে পারেন বলে শোনা গেলেও, তা শুধুমাত্র অনুমান বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় ২০ শতাংশ নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদের ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে বাতিল করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই টুইট করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। টুইটে মমতা অভিযোগ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের মতো একটি অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে একটি দল। মঙ্গলবার রাতে মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, গত ছয় বছরে পশ্চিমবঙ্গে খুন হওয়া বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে ‘বিশেষ আমন্ত্রিত’ হিসেবে রাখা হবে। বুধবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিজেপি। এরপরই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে না যাওয়ার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান মমতা। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘অভিনন্দন, নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি। আমার পরিকল্পনা ছিল ‘সাংবিধানিক আমন্ত্রণ’ গ্রহণ করা এবং শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা। যাই হোক, গত এক ঘণ্টায়, আমি গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখছিলাম যে বিজেপি দাবি করেছে বাংলায় রাজনৈতিক সহিংসতায় ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলায় কোন রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেনি।’ ওই সব হত্যাকান্ড ব্যক্তিগত শত্রুতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোন বিরোধের কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করে মমতা বলেছেন, ‘এর কোনটির সঙ্গেই রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই।’ এরপর লিখেছেন, ‘তাই, আমি দুঃখিত, নরেন্দ্র মোদি জি, অনুষ্ঠানে না থাকতে এটি আমাকে বাধ্য করল।’ ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারকালে মোদির সঙ্গে মমতার তীব্র কথার লড়াই হয়েছিল। এ লড়াইয়ে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি।