জুনের মধ্যে সারাদেশে ই-নামজারি চালু হবে ॥ আমি কালবৈশাখীর মতো আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছি- ভূমিমন্ত্রী

57

কাজিরবাজার ডেস্ক :
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, মাঠ প্রশাসনে ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সৎ, দক্ষ, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসৎপন্থা অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু শাসন করব তা নয়। ভালর জন্য পুরস্কারের পাশাপাশি মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমি কিন্তু সম্পদের হিসাব নিয়ে নিয়েছি। সময় হলে ধরব। চুপ আছি মানে এই নয় যে আমি চুপসে গেছি। বরং আমি কালবৈশাখীর মতো আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় দুর্নীতি করে না। মাঠে সবাই দুর্নীতি করে না। কিছু ব্যক্তি দুর্নীতি করছে। সরকারের বা মন্ত্রণালয়ের হয়ে কেউ দুর্নীতি করেনি।
রবিবার রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের যৌথ আয়োজনে ভূমি সেবায় অধিকতর গতিশীলতা আনয়নে ‘ই-নামজারির ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব সুলতান মাহমুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ভারপ্রাপ্ত ভূমি সচিব মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী, নির্ধারিত আলোচকদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ফায়েকুজ্জামান সাবেক পরিচালক ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর (ভূরেজ অধিদফতর) এবং সাবেক সিনিয়র সচিব মাহফুজুর রহমান।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমির সঙ্গে মানুষের আমৃত্যু সম্পর্ক। প্রচলিত ধারণা, দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার শতকরা ৮৫ ভাগ ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের অংশ হিসেবে আমরা ই-নামজারিতে হাত দিয়েছি। এক সময় মানুষের মধ্যে ভূমির নামজারি নিয়ে তেমন কোন মাথাব্যথা ছিল না। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভূমির গুরুত্ব। সরকারী প্রকল্প কিংবা কারো জমির পাশ দিয়ে সরকারী রাস্তা তৈরি করলে সে জমির মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। এখন সবাই ভূমির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমিসহ একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী টিমওয়ার্ক করব। একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যাবে। মাঠে যেসব কর্মকর্তা, কর্মচারী কাজ করছে তাদের কর্তব্য পালনের ওপর মন্ত্রণালয়ের সুনাম-দুর্নাম নির্ভর করছে। মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার মতো এখনও পরিবেশ তৈরি হয়নি। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি এবং করব। তবে দুর্নীতিবাজদের একটু কষ্ট হবে। আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। কম কথা বলে বেশি কাজ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, মানুষ যখন ভাল সেবা পাবে তখন এমনিতেই সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। মানুষই বলবে দুর্নীতি বেড়েছে না কমেছে। প্রচারের দরকার হবে না। আমি প্রচারবিমুখ মানুষ। কাজ করলে মানুষ বুঝবে কে কাজ করেছে এবং কোন্ আমলে হয়েছে। আমার প্রচারের দরকার হবে না। মন্ত্রী বলেন, আমরা ১০ এপ্রিল থেকে ভূমি সেবা সপ্তাহ এবং ভূমি করমেলা করব। মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এ কর্মসূঈ হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হটলাইন সেন্টার স্থাপন করছি। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা করতে সক্ষম হব। আর প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইবোনদের সমস্যা সমাধানের জন্য শীঘ্রই একটি ওয়েবসাইট খুলছি। তাদেরও ই সেবা দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে গোটা ভূমি মন্ত্রণালয়কে আমার সঙ্গে থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। অর্ধেকের বেশি জনবল নেই। অনুমোদিত পদ থাকা সত্ত্বেও জনবল সঙ্কট আছে। মামলার কারণে নিয়োগ দেয়া যায় না। নিয়োগবিধি হাল নাগাদ করার কাজ চলছে। আশা করি, জনবল সঙ্কট কেটে যাবে। জনবল নিয়োগের বিষয়টি আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। অনেক জায়গায় ভূমি অফিস নেই। অফিস স্থাপনের কাছ চলছে। টেন্ডার হয়েছে।
কাজ এগোচ্ছে। নাম জারিতে আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগছে- এ বিষয়ে সচিব বলেন, আগে ভূমি অফিসে যাতায়াতে যে টাকা ব্যয় হতো তার চেয়ে নিশ্চই বেশি খরচ হয় না। সুতরাং, এ খরচটুকু মেনে সেবা নিলেই সেবাপ্রত্যাশীরা উপকৃত হবে। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তারা একাধিক গ্রুপ হয়ে মামলা করে একে অপরের পদোন্নতি ঠেকিয়ে রেখেছে।
এছাড়া অন্যান্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমি মনে করি, পদোন্নতি পেলে কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্যম তৈরি হয়। সুতরাং, মাঠ পর্যায়ে কর্মরতরা হতাশ হবেন না। আপনাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারা আন্তরিকভাবে কাজ করুন। ‘ক্ল্যারিকেল মিস্টেক‘ যাতে না হয় সে বিষয়ে ’১৫ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর পর থেকে কেউ এই ভুল করলে দায়িত্ব নিতে হবে। সচিব বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত আছে, যে কোন স্থানে ভূমি জরিপ শুরু হলে তা তিন বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে। কিন্তু বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জরিপ কাজ ২০/২৫ বছর ধরে চলছে। এ বিষয়ে সচিব বলেন, দয়া করে এবার থামুন। অনেক হয়েছে। এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিপ শেষ করতে হবে।