ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ছড়াছড়ি

75

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে শিক্ষার্থীরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়ক। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে কোনো বাধা ছাড়াই। চালকদের কত শতাংশ বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে চালকের আসনে বসেছে, সে প্রশ্নটিও অনেক বড়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাড়ছেই। সারা দেশে চলাচল করা যাত্রীবাহী বাসের ৩৩ শতাংশের ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই বলে উচ্চ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিআরটিএ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ শতাংশ বাসের গতি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে সরকারের গঠিত এক বিশেষজ্ঞ কমিটিও ৮৩টি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা চালানোর তথ্য তুলে ধরে উচ্চ আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছে, ২৪ শতাংশ গাড়ির কোনো ফিটনেস নেই, ৪১ শতাংশ গাড়ির স্পিড গভর্নর সিল সঠিক নেই। আর ৩৩ শতাংশ গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদ উত্তীর্ণ। এই প্রতিবেদনও যদি সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও যে চিত্রটি পাওয়া যাচ্ছে, তার ভয়াবহতা কম নয়।
সারা দেশে না হলেও রাজধানীতে মাঝেমধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। তখন পুরনো নড়বড়ে বাস রং করে রাস্তায় নামানো হয়। কখনো কখনো এসব বাস কিছুদিনের জন্য রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় বাস মালিকরা অঘোষিত ধর্মঘটে চলে যায়। একসময় অভিযান থেমে যায়। তখন আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় ঢাকার রাস্তা। পুরনো বাসের বদলে নতুন বাস নামানোর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। শোনা যাচ্ছে রাজধানীতে দুই হাজার নতুন বাস নামানো হবে। এ জন্য যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হতে অন্তত দুই বছর লেগে যাবে। এই দুই বছরে ঢাকার রাস্তার অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। এ ছাড়া যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষাও করা হয় দায়সারাভাবে। একটি গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করতে অন্তত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগার কথা। সেখানে শুধু গাড়ির বডি, চেসিস নম্বর, ইঞ্জিনের অবস্থা ইত্যাদি দেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। খালি চোখে গাড়ি দেখেই দেওয়া হচ্ছে ফিটনেস সনদ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। অবিলম্বে নতুন বাস নামাতে হবে। বিআরটিসিকে সক্রিয় করার কোনো বিকল্প নেই। রাস্তা থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন তুলে দিলে দুর্ঘটনা বেশির ভাগ কমে আসবে।