৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে – মির্জা ফখরুল

43

কাজিরবাজার ডেস্ক :
গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও দলটির নৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মতে, ওইদিন বিএনপিই জয়ী হয়েছে। আর এই ভোটে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে।
শুক্রবার বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ফখরুল এসব কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন একটি কাজে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ চিরদিনের জন্য জনগণের মন থেকে দূরে গেছে। পরাজয় আমাদের হয়নি, হয়েছে আওয়ামী লীগের, তারা নৈতিকভাবে পরাজয় বরণ করেছে। আওয়ামী লীগ সেই দল যারা শুধু ক্ষমতায় থাকতে চায়, ছাড়তে চায় না। সংবিধান এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থে।’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হলো সেই দল যারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে।
রাষ্ট্রকে তারা ধংস করে দেয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর তাদের রাগটা ওই জায়গায়, তিনি দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সেজন্য জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অপপ্রচার চালায়। তবে তাতে কোনো কাজ হবে না। মানুষের হৃদয় থেকে তাকে মুছে ফেলা যাবে না।’
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের যেসব ভাই পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত, কারারুদ্ধ তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। যেসব ভাই নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। সেজন্য আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠন করতে হবে। যারা প্রার্থী ছিলেন নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের মামলা থেকে পরিত্রাণ করা ও জেল থেকে মুক্ত করাতে হবে। যেসব এলাকায় আমাদের প্রার্থী ছিল না, সেখানের দলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনে পরীক্ষিতদের সামনে আনতে হবে ‘
স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের এলাকাছাড়া করে দিয়েছে। কীভাবে নির্বাচন করবো। এখন আমাদের দুটি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো পুনর্বাসন আর অপরটি পুনর্গঠন। এখন ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার লাখ লাখ নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন করতে হবে। আর দলের ত্যাগীদের সামনে এনে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, আব্দুল মান্নান, শাজাহান ওমর, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান।