শীতজনিত রোগ ব্যাধি

112

মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ কামড় বসিয়েছিল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এর রেশ এখনো রয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা এখনো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। শীতের এই ধকল সামলাতে গিয়ে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। আগুন পোহাতে গিয়ে শুধু নীলফামারীতেই দগ্ধ হয়েছে তিনজন। নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। হাসপাতালগুলোতে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। নীলফামারী সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৮ জন। কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সকালের অনেকটা সময়। দিনেও গাড়ি চালাতে হয় হেডলাইট জ্বালিয়ে। দুর্ঘটনা ঘটছে, যানজটও দেখা দিচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ আশঙ্কা করছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ হানা দিতে পারে। সেটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি বা বিকল্প আয়োজনের ব্যবস্থা করা না গেলে তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
শীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। অনেকেরই থাকার ভালো ঘর নেই। ভাঙা বেড়ার ঘরে শীতের কনকনে বাতাস হু হু করে ঢুকে পড়ে। গরম জামাকাপড়েরও অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে দরিদ্র মানুষের পুষ্টির অভাব ও রক্তাল্পতা। তাদের পক্ষে শীতের তীব্র কামড় প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের রক্ষায় তাৎক্ষণিক কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনাও নিতে হবে। চলতি শৈত্যপ্রবাহে দু-এক জায়গায় অতিদরিদ্রদের মধ্যে শীতের কাপড় বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অতি নগণ্য। শহরের ভাসমান মানুষও এ সময় অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাদের না আছে থাকার ঘর, না আছে গরম জামাকাপড়। তাদের সহায়তায় সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা খুবই জরুরি।
প্রকৃতির নিয়মে শীতকালে শৈত্যপ্রবাহ হবে, গ্রীষ্মে দাবদাহ হবে—এসব আটকানোর উপায় নেই। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আমরা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারি। দরিদ্র মানুষের জন্য মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করা গেলে শীত বা ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে তারা অনেকটাই রেহাই পাবে। সেসব পরিকল্পনা রাষ্ট্রকেই করতে হবে। বিত্তবানরাও এসব পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের জন্য গরম কাপড় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদে অতিদরিদ্র মানুষের জন্য স্থায়ী ও মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।