বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের পর্দা উঠছে আজ

46

স্পোর্টস ডেস্ক :
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল টি২০) শিরোপা এবার কার? আজ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও গত আসরে ব্যর্থ হওয়া দল চিটাগং ভাইকিংসের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। দুপুর সাড়ে বারোটায় এই ম্যাচটি মাঠে না গড়াতেই এ প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্নের উত্তর ৮ ফেব্রুয়ারি মিলে যাবে। সেদিনই যে মোট ৪৬টি ম্যাচ শেষে শিরোপার ফয়সালা হবে।
বিপিএলে এবার অংশ নিচ্ছে সাত দল। গত আসরের সাত দলই খেলবে। নতুন কোন দল এবার যুক্ত হয়নি। রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ডায়নামাইটস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, খুলনা টাইটান্স, সিলেট সিক্সার্স, রাজশাহী কিংস ও চিটাগং ভাইকিংস অংশ নিচ্ছে। আজ বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে আরেকটি ম্যাচ শুরু হবে। ম্যাচটিতে গত আসরের রানার্সআপ ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে লড়াই করবে রাজশাহী কিংস।
রংপুর রাইডার্স নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির অধীনে গত আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই ঝলক দেখিয়েছে। মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে শিরোপা জিতেছে। এবারও টম মুডির ঠান্ডা মাথার বুদ্ধিতে তারা শিরোপা ধরে রাখতে চায়। গত পাঁচবারের বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটস চতুর্থ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়। একবারই শিরোপা জিতে। এবার তাদের সামনে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াই। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও তৃতীয় আসরে প্রথমবার অংশ নিয়েই সাদামাটা দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। পরের দুই আসরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এবার দলটি আবার শিরোপা জেতার আশা করছে। খুলনা টাইটান্স ভাল খেলেও একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি। গত আসরে ‘প্লে-অফ’ পর্যন্ত খেলতে পেরেছে। এবার দলটি সেই গন্ডি অতিক্রম করতে চায়। সিলেট সিক্সার্সতো আশার প্রতিফলন ঘটাতেই পারেনি। এবার দলটি মজবুত কিছু করে দেখাতে চায়। রাজশাহী কিংস ও চিটাগং ভাইকিংস বড় কোন সাফল্যের স্বপ্ন এবারও দেখছে।
এবার সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়েছে রংপুর রাইডার্সই। শিরোপার দাবিদারও তারা। দেশের সেরা অধিনায়ক আছেন এই দলে। তিনি সদ্য সংসদ সদস্য হওয়া মাশরাফি। তার সঙ্গে মেহেদী মারুফ, মোহাম্মদ মিঠুন, শফিউল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম অপু, সোহাগ গাজী, ফরহাদ রেজার মতো অভিজ্ঞ দেশী ক্রিকেটার রয়েছেন। বিদেশী ক্রিকেটারেতো রংপুর সব দলকেই টেক্কা দিয়েছে। ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, এ্যালেক্স হেলসের সঙ্গে শেলডন কটরেল, রাইলি রুশো, ওশান টমাস, রবি বোপারা, বেনি হাওয়েল, শন উইলিয়ামসরা আছেন। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এবারও রংপুর শিবিরে শিরোপা নুয়ে পড়তে পারে।
ঢাকা ডায়নামাইটসও শক্তিশালী দল। তবে রংপুরের মতো শক্ত ভিত নেই দলটিতে। এরপরও সাকিবের নেতৃত্বে দলটিতে দেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে নুরুল হাসান সোহান, রনি তালুকদার, রুবেল হোসেন, শুভাগত হোম এবং বিদেশীদের মধ্যে সুনীল নারাইন, কাইরন পোলার্ড, রোভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেলরা যদি নিজেদের মেলে ধরতে পারেন তহলে যে কোন দলকে হারাতে সক্ষম ঢাকা।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলটিও শক্তিশালী। দলে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস, আবু হায়দার রনি, মোশাররফ হোসেন রুবেল, সনজিত সাহা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, জিয়াউর রহমানের মতো দেশী ক্রিকেটার আছেন। আর বিদেশীদের মধ্যে স্টিভ স্মিথের ওপরেইতো এবার সব আলো থাকছে। সেই সঙ্গে এভিন লুইস, লিয়াম ডসন, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, থিসারা পেরেরার মতো টি২০ স্পেশালিস্ট ক্রিকেটারও থাকছেন।
খুলনা টাইটান্স দলটি দুর্বলই বলা চলে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে আল-আমিন, জহুরুল ইসলাম, জুনায়েদ সিদ্দিক, নাজমুল হোসেন শান্ত, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, তানভীর ইসলাম, আরিফুল হক রয়েছেন। বিদেশী ক্রিকেটাররাও এত শক্ত ভিতের নয়। ডেভিড মালান, পল স্টারলিং, ব্রেন্ডন টেইলর, আলী খান, লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ, জহির খান, কার্লোস ব্রেথওয়েট, ডেভিড ভিসে আছেন। তবে এমন দল নিয়েই গত আসরে ‘প্লে-অফ’ খেলেছে খুলনা।
সিলেট সিক্সার্সে এবার যোগ হয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। একবার তার হাতে যদি মার আসে তাহলে বলতো শুধু মাঠের বাইরে পড়বে। তবে লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, সাব্বির রহমান রুম্মন, তৌহিদ হৃদয়, আল আমিন হোসেন, এবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেনদের সঙ্গে আন্দ্রে ফ্লেচার, নিকোলাস পুরান, গুলবাদিন নাইব, মোহাম্মদ ইরফান, সোহেল তানভীর, ফ্যাবিয়ান এ্যালেন, ইমরান তাহির, সন্দীপ লামিচানদের নিয়ে কতদূর যেতে পারবেন ওয়ার্নার? সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রাজশাহী কিংস বরাবরই সাদামাটা দল গড়ে। এবার মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে খেলবে দল। দলে সৌম্য সরকার, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, মুমিনুল হক, মার্শাল আইয়ুব, জাকির হাসান, কামরুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, আরাফাত সানি, আলাউদ্দীন বাবুদের মতো দেশী ক্রিকেটারদের সঙ্গে ইসুরু উদানা, সেকুগে প্রসন্ন, মোহাম্মদ হাফিজ, রায়ান টেন ডয়েশচেট রয়েছেন। রাজশাহী এবার কী পারবে বড় কিছু ঘটাতে?
চিটাগং ভাইকিংসের নেতৃত্বে থাকছেন মুশফিকুর রহীম। তার নেতৃত্বে বিপিএলে আবার ফিরছেন ম্যাচ গড়াপেটায় নিষিদ্ধ হয়ে আবার ফেরা মোহাম্মদ আশরাফুল, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী, আবু জায়েদ রাহী, খালেদ আহমেদ, সানজামুল ইসলাম এবং বিদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে মোহাম্মদ শেহজাদ, নজীবুল্লাহ জাদরান, লুক রনকি, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, সিকান্দার রাজা, দাসুন শানাকা। চিটাগং এবার কিছু করতে পারলেই হয়।
বিপিএলে এর আগে পাঁচটি আসর হয়। ঢাকা তিনবার (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স দুইবার, ঢাকা ডায়নামাইটস একবার), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স একবার ও রংপুর রাইডার্স একবার চ্যাম্পিয়ন হয়। মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে চারবার শিরোপা জেতার স্বাদ নেয়। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে দুইবার, কুমিল্লা ও রংপুরের হয়ে একবার করে। সাকিব একবার ঢাকা ডায়নামাইটসকে চ্যাম্পিয়ন করান। এবার নতুন অধিনায়ক শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে না আবার মাশরাফি ও সাকিবের মধ্যেই শিরোপা ঘোরাফেরা করবে? তা ৩৫ দিনের বিপিএল শেষ হতেই বোঝা যাবে।
লীগপর্বে ৪২টি ম্যাচ হবে। এরপর তিনটি ‘প্লে-অফ’ ম্যাচ শেষে হবে ফাইনাল। সেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলার মিশনেই দলগুলো আজ থেকে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে নামতে শুরু করবে। ষষ্ঠ বিপিএলের পর্দা যে আজই উঠছে।