শেখ হাসিনার নির্বাচনী সফরের খসড়া প্রস্তুত ॥ সরকারি সুবিধা নেবেন না, সিলেটে মাজার জিয়ারত সহ জনসভার কর্মসূচি

333

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারে নামতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সারাদেশের নির্বাচনি সফরের একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি তার অন্যান্য কর্মসূচি এবং আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো চূড়ান্ত করবেন। এই পুরো নির্বাচনি সফরে কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না তিনি।
সফরসূচি তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের সভাপতির নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি খসড়া সফরসূচি প্রস্তুত করে তার কাছে উপস্থাপন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। খসড়া অনুযায়ী, ১১ তারিখ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে এ কর্মসূচি শুরু হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত ছাড়াও সেখানে সুধীমহলের সঙ্গে মতবিনিময় ও একটি জনসভা করার প্রস্তাব খসড়ায় রয়েছে। পরদিন পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটালীপাড়ায় সমাবেশ হতে পারে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোও খসড়া সফরসূচিতে রয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় একাধিক বিকল্প প্রস্তাব রয়েছে। তবে, রুট, পরিবহন ব্যবস্থা, স্থান ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে সার্বিক সফরসূচি চূড়ান্ত হবে।
সফরসূচি তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যতম নেতা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি সফরসূচির খসড়া প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছে। সফরসূচির তারিখ এবং রুটগুলো চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
সূত্রমতে, টুঙ্গিপাড়ার পর প্রধানমন্ত্রী খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, নড়াইল এবং যশোর হয়ে ঢাকা ফিরতে পারেন। যাওয়া ও আসার একটি হতে পারে সড়ক পথে। এছাড়া জেলাগুলোও তিনি সফর করবেন সড়ক পথেই। ঢাকা ফিরেই বঙ্গবন্ধু কন্যা যেতে পারেন সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং হযরত শাহ পরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারতে। সিলেট শহরেই একটি জনসভায় অংশ নিয়ে ওই অঞ্চলের প্রস্তাবিত দুটি রুটের একটি হয়ে তিনি রাজধানীতে ফিরবেন। প্রস্তাবিত রুটের একটি হলো সিলেট থেকে সড়ক পথে সুনামগঞ্জ হয়ে অথবা সড়ক পথে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরা। সিলেটে যাওয়ার অথবা ফেরার পথে একবার বিমানে এবং আরেকবার সড়ক পথে যাতায়ত করবেন তিনি।
এছাড়া ময়মনসিংহসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি জেলা এবং রংপুরসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা সফরে যেতে পারেন সরকার প্রধান। সফরে তিনি জনসভার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডেকে নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেদিন তিনি এসব নেতাকে নির্বাচনি বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার সফরসূচি তৈরি করারও নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী খসড়া প্রস্তুত করে ওই নেতারা ইতোমধ্যে তার কাছে জমা দিয়েছেন। এসব নেতার মধ্যে রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ভুইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।