সামনে নির্বাচন জানি না ক্ষমতায় আসতে পারব কি না – প্রধানমন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরবেন কি না, নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তার দল ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর উন্নয়ন থমকে যাওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেমে যাওয়ার কথা তুলে ধরে আগামীতে যেন এমনটি না হয়, সেটা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ডিসেম্বরে হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসা দলটি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন জানি না আবার ক্ষমতায় আসতে পারব কি না। যদি আসি তো ভালো, আর যদি না আসতে পারি আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ- দেশের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখবেন।’
‘তৃতীয় মেয়াদ জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসব; কিন্তু ভোট না দিলে বলতে পারি না যে আবার ক্ষমতায় আসব।’
কৃষিকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু এবং তার সরকারের আমলে নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যযন্ত বিএনপি শাসনামলে সারের দাবি করা ১৮ কৃষককে গুলি করে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘এখন কৃষককে সারের পেছনে ছুটতে হয় না, সারই কৃষকের পেছনে ছুটে চলে।’
‘আমরা এমন ব্যবস্থা করেছি আমরা কৃষকদের কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। এই কৃষি উপকরণ কার্ডের মাধ্যমে কৃষক তার পণ্য কিনতে পারে। প্রায় দুই কোটি আট লক্ষ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষক এই কৃষি উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। ’
‘১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছি কৃষকদের। এক কোটি কৃষক এই অ্যাকাউন্ট খুলেছে। তাদের ভর্তুকির টাকা সরাসরি যেন তাদের হাতে পৌঁছায় তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’
‘বর্গা চাষিরা কোনো দিন কিন্তু ব্যাংক ঋণ পেত না। আমরাই প্রথম বর্গা চাষিদের ব্যাংক ঋণ দেবার ব্যবস্থা করি। এখানে ড. জলিল সাহেব বসে আছেন, তাকে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে বসেছিলাম, বর্গা চাষিদের কীভাবে ঋণ দেয়া যায় সে ব্যবস্থা করেন।’
‘তখন বাংলাদেশে উপজেলাতেও খুব বেশি ব্যাংকের শাখা ছিল না, ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছানো তো কষ্ট। তিনি (জলিল) আমাকে বলেছিলেন- আমরা কীভাবে দেব? আমাদের তো ব্যাংকের শাখা নাই। আমি বলেছিলাম, শাখা লাগবে না, কৃষককে ব্যাংকের কাছে ধর্ণা দিতে হবে না, আপনি টাকা নিয়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবেন। হাটের দিন প্রত্যেক উপজেলায় টাকা নিয়ে ওপরে চাদর টানিয়ে বসবেন, তাদেরকে টাকা দেবেন, আর টাকা তারা ফেরত দেবে।’
কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশের কৃষিকে বিপ্লব করার বিষয়টিু তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আজকে সবজি উৎপাদনে বিশ্বে আমরা তৃতীয় স্থান অধিকার করে আছি। আলু উৎপাদনে অষ্টম স্থান, আম উৎপাদনে সপ্তম স্থান, মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয়। আমরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ।’
কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘নতুন এখন যেটা করতে হবে, এগুলোতে ভ্যালু অ্যাড করতে হবে, প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।’
বাংলাদেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হচ্ছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে পণ্য বিক্রির জন্য একে সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘নিজের দেশেও যেমন বিক্রি করতে পারব, তেমনি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারব যদি এই সমস্ত খাদ্যশস্য আমরা প্রক্রিয়াজাত করতে পারব। তাই কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার দিকে আরও বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’
‘গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছি আমরাই’
কৃষিতে এই সাফল্য গবেষণার কারণে এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারেই এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
‘৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি গবেষণায় একটা টাকাও নেই। সঙ্গে সঙ্গে আমরা টাকা পয়সা দিলাম। গবেষণা ছাড়া উৎপাদন বাড়বে কীভাবে? এখন আমরা আস্তে আস্তে অনেক ধরনের ধান, সবজি, মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারছি। পাটের জন্ম রহস্য আমরা উদঘাটন করতে পেরেছি। এভাবে আমরা কিন্তু গবেষণার মধ্য দিয়ে এবং কৃষকদেরকে সব ধরনের সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’