সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি বাতিলের দাবী জানালেন পদবঞ্চিতরা

আল-হেলাল সুনামগঞ্জ থেকে :
মনের ক্ষোভ প্রকাশ করার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটিকে অবিলম্বে বাতিল করার উদাত্ত আহবান জানিয়ে সিলেটে আগত কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করলেন সুনামগঞ্জের বঞ্চিত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। ৩০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও এনামুল হক শামীমসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি বাতিলের উদ্দেশ্যে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা প্রথমে সিলেটের রেজিষ্ট্রারী মাঠে অনুষ্ঠিত শোকসভায় যোগদান করেন। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ উত্থাপন করেন তারা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে একে একে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও যুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার এডভোকেট আলী আমজাদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও পিপি এডভোকেট রইছ উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন দিলীপ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট নজরুল ইসলাম শেফু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুনামগঞ্জ-১ আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিম প্রমুখ অভিযোগের স্বপক্ষে বক্তব্য রাখেন। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট আলী আমজাদ অবিলম্বে জেলা আওয়ামীলীগের তথাকথিত কমিটি বাতিলের দাবী জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রকৃত সৈনিক, মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরকে কথিত কমিটিতে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই কমিটি দিয়ে কোনক্রমেই নির্বাচিত বৈতরনি পার পাওয়া যাবে না। জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন রেজা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ছাত্র ইউনিয়নের যেসব কর্মীরা আমার উপর হামলা করে আমাকে মৃত ভেবে আমার লাশ ফেলে রেখে দিয়েছিল, আমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাতির জনকের নির্দেশে ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের মাধ্যমে হেলিকপ্টারে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছিল। হাসপাতালের বেডে আমার শয্যাপাশে এসে আমার মাথায় আদর করে হাত বুলিয়ে দেওয়ায় যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিয়ে আমি আজো বেঁচে আছি, আমার উপর হামলার কারণে যেসব ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ নেতাকর্মীদের উপর মামলা হয়েছিলো আজ তাদেরকে আওয়ামীলীগের জেলা কমিটিতে বড় বড় পদে স্থান দিয়ে আমরা ত্যাগী বঞ্চিত উপেক্ষিত নেতাকর্মীদেরকে উপেক্ষা করা হয়েছে। নাবালক ছেলের এহেন বেয়াদবীতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এসব কুচক্রীরাই গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য করে দল ও নৌকার ভরাডুবি করেছে। জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট নজরুল ইসলাম শেফু নবগঠিত জেলা কমিটির একটি কপি উপস্থিত সকল কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে প্রদর্শন করে বলেন,সুনামগঞ্জ পৌরসভার সর্বাধিক জনপ্রিয় মেয়র জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আয়্যুব বখত জগলুলকে জীবিত অবস্থায় মৃত দেখিয়ে গঠিত প্রহসনমূলক কমিটিতে জগলুল সম্পর্কিত মূলধারার কোন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি। নব্য আওয়ামীলীগার হিসেবে যারা প্রতিভূ সেসব লোকদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে দলের দু:সময়ে কোন লড়াই সংগ্রামে পাওয়া যাবেনা বলে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। সাবেক ছাত্রলীগ ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা কবি জসিম উদ্দিন দিলীপ বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক পদ নিয়ে যে নাবালক ছেলে আওয়ামীলীগার হয়ে শহরে প্রবেশ করেছিল, পদে পদে যে ছেলেটির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল, যার কোন অবস্থানই ছিলনা তাকে আমিই সকল প্রকার সহযোগিতা দিয়েছিলাম, আজকে সেই নাবালক ছেলের কমিটিতে আমি নেই তাতে কোন দু:খ নেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আমার প্রশ্ন দলের দুর্দিনের কান্ডারী, ত্যাগী বঞ্চিত নেতাকর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদেরকে কেন কমিটিতে রাখা হলো না। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুনামগঞ্জ-১ আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিম বলেন, ৮০ থেকে ৯০ দশকে স্বৈরাচারী সামরিক শাসনামলে যেসব ত্যাগী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছে সেসব নেতাকর্মীদেরকে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটিতে কোন পদেই রাখা হয়নি। কমিটিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার পরিবারের সন্তানদেরকে। রাজনীতি বিমুখ ব্যবসায়ীদেরকে কমিটিতে পদায়নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটির বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ প্রদান না করলেও আমার এ বক্তব্য একার নয় সারা জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।