দা, ছুরি ও চাকুর বাজারে ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর বিভিন্ন হাটে কোরবানীর পশু জবাই’র উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য লোহা দিয়ে তৈরি দা, ছুরি, চাকুর বাজারে এখন উপচে পড়া ভিড়। কসাই ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর জন্য কিনে নিচ্ছেন এসব ছুরি, চাকু। সুরমা মার্কেট, কাজিরবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, টিলাগড়, চাঁদনীঘাট, পুরাতন রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে এ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সুরমা মার্কেট ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন বলেন, পশু জবাইয়ের জন্য লম্বা দা বিক্রির জন্য রাখলেও এগুলো যেনো সন্ত্রাসীরা কিনে না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। প্রকৃতপক্ষে কোরবানির জন্য নেওয়া হচ্ছে কিনা লোক দেখলেই অনুমান করা যায়। অন্যথায় বিক্রি বন্ধ রাখি।
এদিকে চাঁদনীঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কামাররা লোহার উপকরণ দিয়ে কোরবানির পশু জবাইয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাত-দুপুর নেই দিন কাটছে দোকানে। এখানেই খাওয়া-দাওয়া। বটি দা, তৈরিতে বিশ্রামহীন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কামাররা বলেন, কোরবানির ঈদ তাদের জন্য সিজন। তাই ঈদের আগে অর্থ উপার্জনের সময়। আগে থেকেই মালামাল প্রস্তুত করে রেখেছেন। ঈদের সময় বিভিন্ন হাট-বাজারে তা বিক্রি করছেন। গ্রামাঞ্চলের বিক্রেতারা শহরের হাট থেকে এসব ছুরি, চাপাতি, চাকু কিনচ্ছেন। তবে বাজারে লোহার দাম বেশি হওয়াতে পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্য পাওয়া যায় না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এরপরও ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করতেই কামার পেশাকে ধরে রেখেছেন বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশরা।
কামাররা বলেন, নতুন একটি ছোরা ৩৫০ থেকে চারশ টাকা, বিভিন্ন সাইজের চাকু ৫০ থেকে একশ টাকা, বটি ২০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য ঈদ উপলক্ষ্যে বিক্রি বেশি হওয়ায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে দাম কম রাখা হচ্ছে।
চাঁদনীঘাট এলাকার অরূপ কর্মকার বলেন, ঈদকে সামনে রেখে আগেই অতিরিক্ত মালামালের অর্ডার নেওয়া হয়েছে। এসব মালামাল তৈরিতে প্রচুর সময় ব্যয় হয়েছে। এছাড়া দোকানে রাখার জন্য অতিরিক্ত মালামাল তৈরি করতে হয়েছে। এজন্য গত পাঁচদিন থেকে নতুন কাজের অর্ডার নেইনি। তিনি বলেন, ঈদের আগে লোহার দাম বেড়েছে। যে কারণে একটু বেশি দামে তৈরিকৃত কোরবানির সরঞ্জাম বিক্রি করতে হচ্ছে। একটি বড় দা পাঁচ কেজির লোহা দিয়ে তৈরি করে মজুরিসহ আটশ টাকা, এককেজির কুড়াল দুই থেকে আড়াইশ টাকা, চাপাতি আকারভেদে চার থেকে পাঁচশ টাকা, বড় ছোরা ওজন ভেদে তিন থেকে সাড়ে ছয়শ টাকা, কুড়াল তিন থেকে চারশ টাকা দরে বিক্রি করছি।
একই এলাকার বিপুল কর্মকার বলেন, ঈদে মজুরি বাবদই দিনে প্রায় দুই হাজার টাকা আয় করছি। এছাড়া রোজার ঈদের পর থেকেই কোরবারনির ঈদে পশু কোরবানির জন্য নতুন ছুরি, চাপাতি, চাকু তৈরির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী লোহার দা, বটি, ছুরি, কাঁচি তৈরীর পাশাপাশি দোকানে রেখে বিক্রির মালামাল তৈরি করতে হয়। ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিনই বিক্রি বাড়ছে। ঈদের আগের দিন সারারাত দোকানে বিক্রি থাকে বলেন তিনি।