জোরপূর্বক পশুবাহী গাড়ী আটক, ব্যবসায়ীদের মারধর ও টাকা-পয়সা লুট ॥ পুরো নগরী জুড়েই অবৈধ পশুর হাট

103

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকা যেন কোরবানির পশুর অবৈধ হাটে পরিণত হয়েছে। আবাসিক এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়ক সবই যেন এক একটি কোরবানির পশুর হাট। আর এসব হাটের মূল কাজই হচ্ছে জোর করে পশুবাহী গাড়ী ও পশু ছিনিয়ে নেয়া। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা পাইকার ও ব্যাপারীরা এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় কী করবেন বুঝে উঠতে পারছে না। শুধু পশু নয় তাদের টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন জায়গায়। প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। কারণ বেশির ভাগ হাটের সাথে জড়িত সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন কোন ক্ষেত্রে অসহায়। নগরীর জেলা পরিষদের ব্যানারে কয়েদীর মাঠ, টিলাগড় পয়েন্ট, নিজাম মেম্বারের নেতৃত্বে এয়ারপোর্ট বাইপাস রোড, নগরীর শাহজালাল উপশহর, তেররতন, আম্বরখানা, আখালিয়া ও দক্ষিণ সুরমা ফল মার্কেটের বিপরীতে সুরমা নদীর পারে অবৈধ পশুর হাট বসিয়ে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে গতকাল নগরীর রিকাবিবাজারে ক্ষমতাসীন দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের কয়েকটি গ্র“প মিলে রিকাবিবাজারে ভিআইপি সড়কের উপর অবৈধভাবে হাট বসিয়েছে। সরেজমিনে এ হাটে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে দেখা গেছে তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ ও বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে আসা পশুবাহী গাড়ী আটক করে জোরপূর্বক পশু নামাতে বাধ্য করছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে অবৈধভাবে হাট বসানোয় স্থানীয় এলাকাবাসী সহ জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এ হাট উচ্ছেদের দাবী জানিয়েছেন। গতকাল বিভিন্ন হাট ঘুরে পাইকার ও ব্যাপারীদের সাথে আলাপকালে তাদের অনেকেই জানিয়েছেন অবৈধ হাটের আয়োজকরা জোরপূর্বক তাদের পশু তাদের হাটে আনতে বাধ্য করেছেন। যে কারণে তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও এসব হাটে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা চান সরকার ঘোষিত বৈধ হাটে যেতে। তারা এও বলছেন পশুবাহী গাড়ী আটক ও টাকা পয়সা লুটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে সিলেটমুখী হচ্ছেন না। যে কারণে এখনও পর্যন্ত সিলেটে কোরবানির পশুর সংকট দেখা দিয়েছে এবং দামও চড়া রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে সিলেটে কোরবানির পশুর হাটের ব্যবসা সংকুচিত হয়ে আসবে।