নিহত ছাত্রদল নেতা রাজুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, লাশ নিয়ে মিছিল ॥ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার, এখনো মামলা হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হওয়া ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর ২টার দিকে ময়না তদন্তে শেষে পুলিশের কাছ থেকে লাশ বুঝে নেন তার স্বজনরা। লাশ কাঁদে নিয়ে সতীর্থ সহকর্মী পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মেডিকেল ক্যাম্পাস এলাকায় মিছিল করে রাজুর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন।
নিহত মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক রাজু মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা ফজর আলীর পুত্র। ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন রাজু। রাজু সিলেট ল’ কলেজে এলএলবি পরীক্ষা দিয়েছেন। থাকতেন নগরীর শাহজালাল উপশহরের এ ব্লকে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ফয়জুল হক রাজু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছাত্রদলের ৩ নেতাকে কোতোয়ালী থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদেরকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে স্বীকার করেছে। এই ৩ ছাত্রদল নেতা হলেন- জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি লিটন আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান মুন্না ও জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পদত্যাগকারী) আনোয়ার হোসেন রাজু। এ ৩ নেতাই থানা থেকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, তাদেরকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে রেখেছে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলাও রয়েছে। তিনি জানান, রবিবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে রাজুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, রবিবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে নিহত ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুর লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। তার লাশ গোসল করাতে নিয়ে যাওয়া হয় মানিকপীর কবরস্থান এলাকায়। সেখানে উপস্থিত থাকা জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পদত্যাগকারী) আনোয়ার হোসেন রাজুকে গ্রেফতার করেন সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামাল আহমদ। রাজুকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতা লিটন আহমদ ও এখলাছুর রহমান মুন্না ছুটে যান সোবহানীঘাট ফাঁড়িতে। পুলিশ আনোয়ার হোসেন রাজু, লিটন ও মুন্নাকে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে তার লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর উপশহরের বাসায়। বিকেল ৩টায় নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজালাল উপশহরের এ ব্লক জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহতের স্বজনরা জানান, জানাজা শেষে সেখান থেকে রাজুর লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি শাহপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।
নিহতের পিতা ফজর আলী জানান, সিলেট ল’ কলেজে এলএলবি পরীক্ষা দিয়েছে রাজু। এখনো ফল বের হয়নি। রাজুর লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। বাদ এশা দ্বিতীয় জানাযা শেষে দাফন করা হবে। পিতা হয়ে ছেলের লাশ দেখবেন এমনটা কখনো ভাবেন নি বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত ৯টায় নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল শেষে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ নতুন কমিটির কতিপয় ক্যাডারদের হামলায় গুরুতর আহত হন রাজুসহ ৩ ছাত্রদলকর্মী। তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্রপচারকালে মারা যান রাজু। আহত জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সালাহ লিটন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।