কুমারপাড়ায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর কুমারপাড়ায় ছাত্রদলের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে ফয়জুর রহমান রাজু (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি মহানগর ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক। সংঘর্ষে আহত হন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত আরো ২ কর্মী। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. দেবব্রত রায়।
শনিবার রাত পৌনে ১১টায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই ফারুক আহমদ। এর আগে রাজুকে হাসপাতালে নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত উজ্জ্বল আহমদকে ভর্তি করা হয় মেডিসিন বিভাগে। তারা ছাত্রদলের এখলাছুর রহমান মুন্না গ্র“পের অনুসারী। মুন্না এ ঘটনার জন্য ছাত্রদলের আব্দুর রকিব চৌধুরী গ্র“পকে দায়ী করেছেন। তবে, এ ব্যাপারে রকিবের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিসিকের মেয়র হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় বিজয় মিছিল নিয়ে আরিফের বাসার সামনে আসেন ছাত্রদল নেতা কর্মীরা। এ সময় ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েন। এ ঘটনায় পদবঞ্চিত ছাত্রদলের ৩ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হন রাজু। পরে তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজু মারা যান। আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, মেয়র পদে বিজয়ী আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বোরোনোর পর বিজয় মিছিল বের করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি কুমারপাড়া গিয়ে পৌঁছালে নিজ বাসভবনে চলে যান আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর বাকবিতণ্ডার জের ধরে সড়কে ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা পদবঞ্চিত ছাত্রদলের কর্মীদের কুপিয়ে জখম করেন। রাস্তা রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।