ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ॥ সিটি কর্পোরেশনের ১৬ কেন্দ্রে আজ পুন:ভোট গ্রহণ ॥ আজ মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরদের ভাগ্য নির্ধারণ

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত হওয়া দু’টি কেন্দ্রসহ ১৬টি কেন্দ্রে আজ পুন:ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে টানা ভোট গ্রহণ শেষে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর (২৭ নং ওয়ার্ড) ও মহিলা কাউন্সিলরদের (সংরক্ষিত ৭ নং ওয়ার্ড) ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন নির্বাচন কমিশন। ১৬টি কেন্দ্রে ৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, ব্যাটালিয়ন পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার ও আনসার-ভিডিপির হাজার খানেক সদস্য মোতায়েন থাকবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বক্সসহ ভোট গ্রহণের ৪২ ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছেছেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
৩০ জুলাই সিসিক নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টির ঘোষিত ফলাফলে আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। ফলাফলে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে আরিফুল হক চৌধুরী এগিয়ে থাকলে স্থগিত কেন্দ্র দু’টির ভোটের চেয়ে ১৬১ ভোট কম পেয়েছেন। স্থগিত কেন্দ্র দু’টির মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭। যে কারণে গত ১ আগষ্ট নির্বাচন কমিশন স্থগিত কেন্দ্র দু’টিসহ ১৬ কেন্দ্রে আজ ১১ আগস্ট পুনঃনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন।
৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিসিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। গাজী বুরহান উদ্দিন গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ ও নারী) কেন্দ্রে ২ হাজার ১২১ ভোটার। এ কেন্দ্রে এর মধ্যে মারা গেছেন, ৮০ জন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন ৮০ জন। ওয়ার্ড ছেড়ে চলে গেছেন অন্তত আরো ২৫-৩০জন এবং হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার- ১১৫৩ ও মহিলা ভোটার ১০৬৮ জন। এ কেন্দ্রে এর মধ্যে মারা গেছেন, ৩৮ জন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন ১০০ জন। ওয়ার্ড ছেড়ে চলে গেছেন অন্তত আরো ৩ জন।
হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত। এ ওয়ার্ডে আজম খাঁন (ঘুড়ি) ভোট পান ৩২৫৪টি এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল জলিল নজরুল (টিফিন ক্যারিয়ার) পান ২১০২ ভোট। এছাড়া সংরক্ষিত-৯ আসনে (২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড) : এডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ (চশমা) ৭৯৭০টি ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামিরুন নেসা (গ্লাস) ভোট পান ৫৪৭৫টি।
এর মধ্যে সংরক্ষিত-৭ নং আসনে (১৯, ২০ ও ২১) গত ৩০ জুলাই নির্বাচনে বাস গাড়ি প্রতীকে ৪ হাজার ১৫৫ ভোট পান নাজনীন আক্তার কণা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নার্গিস সুলতানাও চশমা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সমান সংখ্যক ভোট পান। যে কারণে তাদের মধ্যে পুন:ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪টি কেন্দ্রে ৩২টি কক্ষে ১১ হাজার ৬২৬ জন ভোট দেবেন। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি কেন্দ্রে ৩১ কক্ষে ১০ হাজার ৫৬৪ জনের ভোটগ্রহণ করা হবে এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি কেন্দ্রে ৩৪টি কক্ষে ১১ হাজার ৯৩৩ জন ভোটার ভোট দেবেন।
সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো হলো- ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পূর্ব পাশের ভবন (পুরুষ) এবং উত্তর ও পশ্চিম পাশের ভবন (নারী), বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ), দর্জিপাড়া সার্ক ইন্টারন্যাশনাল কলেজ (নারী), ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এমসি কলেজ টিলাগড় (পুরুষ ও নারী), দেবপাড়া নবীন চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উত্তর পাশের ভবন (পুরুষ কেন্দ্র) ও দক্ষিণ পাশের (নারী), সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় (নারী ও পুরুষ), ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় (পুরুষ ও নারী), কালাশীল চান্দুশাহ জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা (পুরুষ ও নারী), সোনারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ ও নারী), শিবগঞ্জ স্কলার্সহোম প্রিপারেটরি স্কুল (পুরুষ ও নারী)। এ ১৪টি কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ১২৩ জন ভোটার ৯৭টি কক্ষে ভোট দেবেন।
সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এসব কেন্দ্রে শ’ খানেক প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পুলিং কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, কেন্দ্র সংখ্যা কম থাকায় বাইর থেকে আলাদা ফোর্স আনা লাগছে না। শুধু মহানগর পুলিশ, আমর্ড পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ব্যাটালিয়ন আনসার, আনসার-ভিডিপির প্রায় সহস্রাধিক ফোর্স নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, নির্বাচনে ১৬টি কেন্দ্রের জন্য ৭জন ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটদের দু’জন স্থগিত হওয়া দু’টি কেন্দ্রের পুলিশের টিমের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন। এছাড়া বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্সে ৪ জন ও র‌্যাবের ৬টি টিমের একটির সঙ্গে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।