কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫টি ভবনের নির্মাণ কাজে শুরুতেই অনিয়ম অভিযোগ

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে ৩১ শয্যা থেকে ৫২ শয্যায় উন্নীত করায় হাসপাতালের আঙ্গিনায় নতুন করে প্রায় ১৫কোটি টাকা ব্যায়ে ৫টি নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কাজের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভবন নির্মাণ কাজের সিডিউল কপি নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গোপন রেখে নি¤œ মানের বালু,পাথর দিয়ে ফাইলিং পিলার তৈরি করা হচ্ছে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ৫টি ভবনের ফাইলিং পিলারের কাজে লোভার ভাংগা পাথর ও মাটিযুক্ত বালু ও জাফলং শ্রীপুর, বল্লাগাটের মিশ্রিত ভাংগা পাথর ব্যবহার করে ভবনের ফাইলিংয়ের কাজ করা গত মঙ্গলবার স্থানীয় সচেতন মহল কাজের স্থলে জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। কাজের সিডিউলের কপি গোপন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন ধরনের স্থানীয় প্রশাসনিক তদারকী ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহল কাজের সিডিউল কপি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাওয়ার পরও দিতে অসম্মতি জানায় তারা। এছাড়া কাজের নির্মাণাধীন ভবনের পার্শে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম, কাজের সময়সীমা, প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড আকারে টানানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য আব্দুল হেকিম শামীম সহ স্থানীয় সচেতন মহল গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানা যায়,শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির তত্বাবধানে ভবনগুলোর ফাইলিং এর কাজ পুরোদমে চলছে। শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে জানা যায় ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব পান রবিউল ইসলাম নামে জনৈক এক ঠিকাদার। ঐ ঠিকাদারের মুঠোফনের নম্বর ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানার ভিতরে ১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫টি ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। এ কাজের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউ কিছু জানেন না। স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে অন্ধকারে রেখে এ কাজ চলছে। স্থানীয় লোভা পাথর কোয়ারির বালু,পাথরের সাথে শ্রীপুর ও ভোলাগঞ্জের নি¤œ মানের বালু, পাথর মিশ্রিত করে ফাইলিংয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। পাথর ধোয়ার ও বালু পরিষ্কারের কোন ব্যবস্থা নেই। এতে স্থানীয় জনগণ গত মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে জেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল হেকিম শামীম ও ইকবাল হোসেন সহ এলাকার বেশ কয়েকজন লোকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দায়ের করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা কাজের তত্ত্বাবধানে থাকা শফিকুল ইসলামকে ডেকে এনে তার কার্যালয়ে সিডিউল ছাড়া কাজ শুরু করায় সতর্ক করেন এবং সিডিউলের কপি জনসম্মুখে প্রকাশ করা না পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ঐদিন কিছু সময় কাজ বন্ধ রাখলেও এখন পুরোদমে চলছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একজন প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার বুধবার সকালে এসে দেখা করে সিডিউল মোতাবেক কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে গেছেন।