খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে ৪ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার :
দক্ষিণ সুরমায় খুন করে লাশ গুম করার অপরাধে ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমান অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: মফিজুর রহমান ভূঞা এ রায় প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে- ওসমানীনগর থানার বড় দিয়ারাই গ্রামের মো: মকছুন আলীর পুত্র জসিম আহমদ সাগর (২২), জালালাবাদ থানার বলাউড়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর পুত্র হোসেন উরফে কামাল উরফে লিটন উরফে বর্গা (২৮), নগরীর কালিঘাট রোডের গাংপাড় কালু মিয়ার বাড়ির মান্নান উরফে ড্রাইভার মান্নানের পুত্র বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার সাইটুলা ও নগরীর মেন্দিবাগ কাজী মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা মো: নাছির উদ্দিন (১৯) এবং শাহপরান থানার লালখাটঙ্গী ছড়ারপারের লাল মিয়া ভান্ডারীর পুত্র রাজু আহমদ মুরাদ (২২)। এর মধ্যে শুধু জসিম আহমদ সাগরকে গতকাল বুধবার কারাগারে প্রেরণ করা হলেও অপর আসামী হোসেন উরফে কামাল উরফে লিটন উরফে বর্গা, মো: নাছির উদ্দিন ও রাজু আহমদ মুরাদ বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, জালালাবাদ থানার ফতেহপুর খালপারের হাবিবুর রহমান বকুল (৩৬) ২০১৫ সালের ৩ এপ্রিল রাত ১২ টার দিকে শ্বশুড়বাড়ী বিশ্বনাথ থানা এলাকায় থেকে নগরীর একটি হাসপাতালে তার অসুস্থ সন্তানের জন্য খাবার নিয়ে লামাকাজি হয়ে শহরে আসার পথে আসামীরা তাকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে খুন করে। পরে আসামীরা লাশটি গুম করার জন্য দক্ষিণ সুরমা থানার সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের খানুয়া নামকস্থানে তার লাশ ফেলে যায়। পরদিন ৪ এপ্রিল সকাল ৭ টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমান বকুলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৮ (১২-০৪-২০১৫)। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ এ খুনের ক্লু উদঘাটন করতে মাঠে নামে এবং এক পর্যায়ে আসামী জসিম আহমদ সাগরকে গ্রেফতার করে। এ সময় জসিমের কাছ থেকে হাবিবুর রহমান বকুলের লুট হওয়া মোবাইলফোনটি উদ্ধার করে আসামীদের সনাক্ত করে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ নভেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই মো: আবু মোকাছেদ পিপিএম ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আদালত এ মামলার বিচারকার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৫ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামী জসিম আহমদ সাগর, হোসেন উরফে কামাল উরফে লিটন উরফে বর্গা, মো: নাছির উদ্দিন ও রাজু আহমদ মুরাদকে দ্য পেনাল কোডের ৩৯৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে উল্লেখিত দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট মো: মফুর আলী ও আসামীপক্ষে স্ট্রেট ডিফেন্স এডভোকেট শাহ আলম মহিউদ্দিন মামলাটি পরিচালনা করেন।