ভোরে বাংলাদেশ-উইন্ডিজ প্রথম টি-টোয়েন্টি

স্পোর্টস ডেস্ক :
টেস্ট সিরিজে লজ্জাজনক হারের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের সামনে এবার টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ। বুধবার শুরু বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এদিন সেইন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়।
ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দুর্বল এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। গত জুনে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন রয়েছে দশম অবস্থানে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনেক শক্তিশালী দল। তাদের দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়ে থাকে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার খেলে থাকেন। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তাদের ভালোভাবেই জানা। তাই স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো কিছু করতে চাইবে ক্যারিবীয়রা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে তিনটিতে। আর বাংলাদেশ জিতেছে দুইটিতে। বাকি এক ম্যাচে ফল আসেনি।
টেস্ট সিরিজে হারলেও ওয়ানডে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসী। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাকিব আল হাসানরা টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভালো করতে চাইবেন। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে শুরুতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। এই হার ছোটখাটো কোনো হার ছিল না। দুই ম্যাচেই লজ্জাজনকভাবে হারে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ১৪৪। এই ৪৩ রানই যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রানের ইনিংস। এই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ২১৯ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচটিও শেষ হয়েছিল তিন দিনে। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ১৬৬ রানে।
টেস্টে এমন ব্যর্থতার পর ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ৪৮ রানে। এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন তামিম ইকবাল। ১৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৯৭ রান করেন সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২০৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।
দ্বিতীয় ম্যাচে জিততে জিততে হেরে যায় বাংলাদেশ। তিন রানের কষ্টের হারে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা বাড়ে টাইগারদের। তৃতীয় ম্যাচে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরির উপর ভর করে সেই আপেক্ষ ঘোচায় বাংলাদেশ। ১০৩ রান করেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ জয় পায় ১৮ রানে।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে দলে না থাকলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে আছেন সৌম্য সরকার। বুধবার একাদশে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে লিটন দাসকে। আর ওয়ানডাউনে খেলানো হতে পারে সৌম্য সরকারকে। গত জুনে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। ওই সিরিজ শুরুর আগ মুহূর্তে ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাদশে থাকবেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান একাদশে ঢুকলে আবু হায়দার রনিকে একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। সাব্বির রহমানের জায়গায় একাদশে থাকতে পারেন আরিফুল হক।
বাংলাদেশ একাদশ (সম্ভাব্য) : লিটন দাস, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ (সম্ভাব্য) : এভিন লিউইস, আন্দ্রে ফ্লেচার, মারলন স্যামুয়েলস, দিনেশ রামদিন, আন্দ্রে রাসেল, রভম্যান পাওয়েল, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), কিমো পল, অ্যাশলে নার্স, স্যামুয়েল বাদরি, কেজরিক উইলিয়ামস।