ওসমানীনগরে কিশোরী কনের বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পন্ড

ওসমানীনগর থেকে সংবাদদাতা :
৪৫ ঊর্দ্ধো সুরুজ আলীর সাথে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী কিশোরীসারিকার বিয়ের দিন ছিল গতকাল শুক্রবার ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের কিশোরী কনে পৃত্রালয়ে। কিশোরী কনে আব্দুল্লাপুর গ্রামের আব্দুশ সহিদের মেয়ে। স্থানীয় রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। বর ছিলেন একই গ্রামের সিকন্দর আলীর পুত্র সুরুজ আলী। উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সম্মতিতে বৃহস্পতিার বিকাল থেকেই জাঁকজমক পূর্ণভাবে চলছিল বিয়ের সব আয়োজন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশন মাধ্যমে বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় কনের বাড়িতে উপস্থিত হন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। পন্ড করে দেন বাল্য বিয়ের সব আয়োজন।
বরের চাচা (বর্তমান অভিভাবক) মাহমদ আলী ও কনের পিতা আব্দুশ সহিদ জানান, কম বয়সে বিয়ে দেওয়া আইনের কুফল তা তারা আগে না জানার কারণে এ বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। প্রশাসনের লোকজন আসার পর বিষয়টি জানতে পেরে তারা উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছেন। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কমিশনের নেতৃবৃন্দের কাছে তারা প্রতিশ্র“তিবদ্ধ হয়েছেন যে, কখনও আর কোন বাল্যবিয়ের আয়োজন করবেন না।
রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিখিল দাশ বলেন, বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সারিকা বিয়ের আয়োজন খবর শুনে আমরাও মর্মাহত হয়েছি। অবশেষে ইউএনও সারিকার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেয়ার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আনন্দিত।
মানবাধিকার কমিশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম সুহেল বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিশনের উমরপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতির মাধ্যমে আমি খবর পাই। পরবর্তীতে সাদীপুর ইউনিয়ন শাখার নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বর কনের তথ্য সংগ্রহ করে ইউএনও মহোদয়কে জানাই। পরবর্তীতে রাতেই কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বিয়ের আয়োজন পুন্ড করি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, বাল্য বিবাহ মুক্ত এ উপজেলা কোন অবস্থাতেই বাল্য বিয়ের আয়োজন করা যাবে না। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই কনের বাড়িতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শারিকার বিয়ের আযোজন পন্ড করি। এ সময় বরসহ তার অভিভাবক ও কনের অভিভাবকরা উভয়ই তাদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন কখন আর এভাবে কোনো বিয়ের আয়োজন করবেন না।