প্রশাসনের তৎপরতায় কুশিয়ারা নদীর ওসমানীনগর অংশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ, স্থানীয়রা স্বস্তিতে

ওসমানীনগর থেকে সংবাদদাতা :
উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে কুশিয়ারা নদীর ওসমানীনগর অংশ থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তৎপরতায় ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ফলে আগের মতো এখন আর দিনের বেলা ওসমানীনগর অংশ থেকে বালু উত্তোলন করতে পারছেননা প্রভাবশালীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর তীরবর্তী স্থাপনাগুলো হুমকির মুখে পড়ে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের তাজপুর, সুরিকোণা, খছরুপুর, বালাগঞ্জ উপজেলার সদরের বালাগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল গ্রাম, পারকুল গ্রামস্থ বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লাট, শেরপুর ব্রীজের আশপাশ এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত থাকে। এতে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হন। তারা আন্দোলনমুখী হয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে সংবাদ প্রচার এবং প্রকাশ হয়। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এদিকে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান প্রায় সপ্তাহ খানেক অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সক্ষম হন।
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া, শিব্বির মিয়া ও ফজলু মিয়াসহ নদীপারের বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালীরা কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেই। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দিনের বেলায় আপাদত বালু উত্তোলন বন্ধ হয়েছে। তবে রাতের আঁধারে ওসমানীনগর অংশে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি দিনের বেলা ওসমানীনরগরের পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জ উপজেলা অংশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কুশিয়ারা নদী থেকে পুরোদমে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হলে বালু খেকো ওইসব প্রভাবশালীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান বলেন, থানা পুলিশের সহযোগীতায় প্রায় সপ্তাহ খানেক অভিযান পরিচালনা করে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। আর যাতে বালু উত্তোলন করা না হয় সে বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফের অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।