৪শ’ কলেজ-মাদ্রাসায় সবাই পাস, ৫৫টিতে সবাই ফেল

কাজিরবাজার ডেস্ক :
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষায় সারাদেশে ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া সব পরীক্ষার্থী পাস করেছ। অপর দিকে ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি।
এই শতভাগ পাস আর শতভাগ ফেল-দুই দিক থেকেই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার কমেছে। গত বছর ৫৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। অর্থাৎ এবার এই সংখ্যাটি কমেছে ১৩২টি।
অন্যদিকে গতবার ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল করেছিল। তবে এবার এই ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এ তথ্য দেন।
গত তিন বছর ধরেই পাবলিক পরীক্ষার ফল ক্রমাগতভাবে খারাপ হচ্ছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ৫.৭ শতাংশ কম পাস করেছিল। এবার এই সংখ্যাটা কমল আরও। গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার আরও কমেছে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, পাসের হার কমলেও এবার গত বছরের তুলনায় এবার বেশি পরীক্ষার্থী পাস করেছে। কারণ, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৩১৭ জন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত বছর পাস করেছিলেন ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন।
এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেশি ছিল ১৭৪টি। গত বছর আট হাজার ৭৭১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিলেও এবার সংখ্যাটি ছিল আট হাজার ৯৪৫টি।
‘গতানুগতিক পড়াশোনা করে ভালো ফল সম্ভব নয়’
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর প্রতি বছর যেখানে পাসের হার বাড়ছিল, সেখানে তিন বছর ধরেই তা নিম্নমুখী। শিক্ষামন্ত্রী সকালেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে ব্যাখ্যা দিয়ে আসেন যে, তারা এখন শিক্ষার গুণগত মানের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। খাতা দেখায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সচিবালয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গতানুগতিক পড়ালেখা করে এখন ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। এখন পরীক্ষা পদ্ধতির বেশকিছু পরিবতন আনা হয়েছে। সেই বিষয়গুলো লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে।’
এবার পরীক্ষায় খাতা দেখা নিয়ে অভিযোগেরও সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। বলেন, ‘অনেক বেশি গবেষণা করে শিক্ষার মান বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
‘পাসির হার কমলেও শিক্ষার মান বৃদ্ধির বিষয়কে আমরা পজিটিভলি (ইতিবাচকভাবে) দেখছি।’