কোটা সমস্যা সমাধান

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের এ জন্য ধৈর্য ধরতেও বলা হয়েছিল। পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা সচিব কমিটি নামে পরিচিত। তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার জন্য কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি কমিটি। তারা আরো সময় চায়। কমিটির মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ানো হোক এ মর্মে সরকারের কাছে আবেদন করতে যাচ্ছে তারা, এ বিষয়ক প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়েছে।
কোটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা পর্যালোচনাসংক্রান্ত সচিব কমিটির আহ্বায়ক হলেন মন্ত্রিপরিষদসচিব।
সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার পর্যালোচনা ও সুপারিশ করার জন্য গত ২ জুলাই সাত সদস্যের ‘সচিব কমিটি’ গঠন করে সরকার। কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। এ হিসেবে আগামী ২৩ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। কমিটি এ পর্যন্ত একটি সভা করেছে। গত ৮ জুলাইয়ের সভায় কোটাসংক্রান্ত দেশি-বিদেশি তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। যা হোক, কমিটি কাক্সিক্ষত মাত্রায় অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি, তার প্রমাণ মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রণয়ন।
অন্যদিকে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এ কোটা রাখতেই হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিতে হলে সরকারকে আগে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করে অনুকূল রায় পেতে হবে। আপিল বিভাগের এক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটা থেকে পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হলেও ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রয়ে গেছে। এটা অগ্রাহ্য করা হলে আদালত অবমাননা হবে।
মন্ত্রীর ভাষ্য ও সচিব কমিটির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব প্রণয়নের ফলে কোটা সংস্কার বিষয়ে সরকারের তৎপরতা নিয়ে সন্দেহের মাত্রা আরো বাড়ল। এখন প্রশ্ন দেখা দেবে, সরকার কোটা বিষয়ে যা বলেছে তা কি ভেবেচিন্তে বলেনি? মন্ত্রী কি আদালতের রায়ের বিষয়গুলো আগে জানতেন না? মন্ত্রী-এমপিরা কি সরকারপ্রধানকে ভুল বুঝিয়েছিলেন? আমলাতন্ত্র কি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক নয়? তারা কি টালবাহানা করে কোটা সংস্কারের বিষয়টিকে ঝুলিয়ে দিতে চাচ্ছে? তারা কি সরকারকে বিপদে ফেলতে চাইছে? এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, সরকার প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আন্তরিক থাকুক এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পর্যালোচনাপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।