গোলাপগঞ্জে বালু মহাল নিয়ে এখনো উত্তেজনা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

সেলিম হাসান কাওছার গোলাপগঞ্জ থেকে :
গোলাপগঞ্জে সুরমা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে বালু উত্তোলনকারী লোকজন দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করলে দুপুরে স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করার জন্য চকরিয়া বাজারে জড়ো হন। খবর পেয়ে সিলেট দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী ও গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলীর নেতৃত্বে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ ও সিলেট থেকে আসা এক প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বালু উত্তোলনকারীরা তাদের ড্রেজার সরিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে। উপজেলার গোলাপগঞ্জ সদর ইউপির রুইগড় ও গোয়াসপুর এলাকা দিয়ে ভয়ে যাওয়া সুরমা নদীতে প্রায় একমাস থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। বালু খেকোদের অব্যাহত বালু উত্তোলণের ফলে বাড়ীঘর, স্কুল কলেজ ও ফসলী জমি হুমকির মুখে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন জেলা উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেক মায়া কান্না করেও কোন সুফল পাচ্ছে না। গত (১৭ জুলাই) মঙ্গলবার দুপুরে সরকার দলীয় প্রভাবসালী চক্র ৫/৬টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার সময় বাধা দেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় বালু উত্তেলনকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার শুরু হলে বালু উত্তেলনকারীদের ভাড়াটে লোকজন ১০/১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে স্থানীয়দের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে স্থানীয়রা কোন উপায় না পেয়ে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের চকরিয়া বাজার সাড়ে তিন ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন এবং বালু খেকোদের ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নেয়ার পর সন্ধ্যা ৭টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনার পরদিন গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় আবারো দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোল শুরু করলে স্থানীয় তিনটি গ্রামের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে ওই এলাকায় বালু উত্তেলন করলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সদর ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার জালাল আহমদ, গোয়াসপুর গ্রামের মৃত ইউছুফ আলীর ছেলে শামসুল ইসলাম ও উত্তর গোয়াসপুর রুইগড় গ্রামের পঙ্কি মিয়া জানান, বালু উত্তোলনকারীরা স্থায়ী ভাবে ড্রেজার সরিয়ে না নিলে আমরা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধসহ যে কোন মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি।
এ ব্যাপারে সিলেট দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমরা সড়ক অবরোধের খর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছার পর অবরোধকারীরা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং আমরা ওই এলাকায় পৌছার পর কোন ড্রেজার পাইনি। বালু উত্তোলন করা না করার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন ওটা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের বিষয়। এ সময় স্থানীয়দের হাইকোর্টে রিট করতে বলা হয়। গত (১৭ জুলাই) মঙ্গলবার দুপুরে বন্দুক দিয়ে গুলাগুলির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। বালু উত্তোলকারীদের দাবী ওইদিন স্থানীয়রাও গুলাগুলি করছে। আর আমাদের উপর দোষ দিচ্ছে।