সৎ পিতা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষণের ঘটনা ॥ জবানবন্দী শেষে স্কুলছাত্রী নিরাপদ হেফাজতে

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর রায়নগরে সৎ পিতা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষণের দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীর ২২ ধারার জবানবন্দী শেষে বাগবাড়ী শিশু নিরাপদ হেফাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মামলার আইও কোতোয়ালী থানার এসআই রিংকু রাণী দাস ভিকটিমকে সিলেট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (১ নং আমলী) আদালতে হাজির করেন। এ সময় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করে তাকে নগরীর বাগবাড়ী শিশু নিরাপদ হেফাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত প্রায় ২ মাস ধরে নগরীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণ করে আসছিলো সৎ পিতা পিটু মিয়া। কাউকে কিছু বললে মেয়েকে মেরে ফেলার ভয়ও দেখাচ্ছিলেন পিটু। গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাতেও ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরদিন ১৪ জুলাই শনিবার সকালে মারপিট করে শিশুটিকে গোসল করিয়ে বাইরে যান পিটু। ভীতসন্ত্রস্ত ছাত্রটি পাশেই এক বান্ধবির বাসায় গিয়ে বান্ধবির মাকে সব খুলে বলে সে। ওই বান্ধবির মা শরণাপন্ন হন পুলিশের। শনিবার দিবাগত রাতেই পিটু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পুলিশ গ্রেফতারকৃত পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হলে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ছাত্রীটিকে কোতোয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়। গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বাগবাড়ী শিশু নিরাপদ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। স্কুল ছাত্রী তার মায়ের বাড়ি গোলাপগঞ্জে। বর্তমানে তিনি থাকেন সৌদি আরবে। তিনি প্রথমে বরিশালের হেলাল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। ওই সংসারে জন্ম নেয় দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়–য়া ওই শিশুটি। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন মা। কিছুদিন পর বগুড়ার গাবতলি থানার সরধনকুঠি গ্রামের পিটু মিয়াকে (২৮) বিয়ে করেন ওই মহিলা। গেল বছর সৎ পিতা পিটু মিয়ার কাছে নিজের শিশুকন্যাকে রেখে সৌদি আরবে যান তিনি। ওই শিশুকন্যাকে নিয়ে নগরীর রায়নগর সৌরভ ২০ নং বাসায় থাকতেন পিটু মিয়া।