গোলাপগঞ্জে বালু উত্তোলন করাকে কেন্দ্র করে হামলা-পাল্টা হামলা ও গুলি বর্ষণ

গোলাপগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বাধা দিলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বালু উত্তোলনকারীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গ্রামবাসীদের উপরে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে বালু উত্তোলকারীদের বাড়াটে লোকজন ১০/১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। মঙ্গলবার স্থানীয় রুইগড় ও গোয়াসপুর এলাকার লোকজন সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা প্রদান করলে তাদের উপর হামলা চালায় ওই দুষ্কৃতিকারি বাহিনী। স্থানীয়রাও ফের হামলা চালালে বালু উত্তোলনকারী চক্র তাদের বাহিনী নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালায় এবং ১০/১২ রাউন্ড গুলিও ছুঁড়ে। স্থানীয়রা ভয়ে দিকবিদিক ছড়িয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিক মসজিদের মাইকে এলাকায় সংবাদ দিলে রুইগড়, গোয়াসপুর এলাকার হাজার হাজার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে বালু উত্তোলন কারীদের ধাওয়া করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা সুরমা নদীর গোয়াসপুর ও রুইগড় এলাকা থেকে ড্রেজার সরানোর জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। পাশাপাশি স্থানীয়রা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও সড়কের ব্যারিকেড তুলতে পারেনি পুলিশ। সন্ধায় ড্রেজার মেশিন সরানোর পর স্থানীয়রা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের অবরোধ তুলে। গোয়াসপুর গ্রামের মৃত ইউছুফ আলীর ছেলে শামসুল ইসলাম ও উত্তর গোয়াসপুর রুইগড় গ্রামের পঙ্কি মিয়া জানান, তারা ফুলবাড়ীর ফখরের লোকজন প্রায় একমাস থেকে বালু উত্তেলন করছেন। আমাদের বাড়ীঘর ও ফসলি জমি হুমকির মুখে। গতকাল দুপুরে আমাদের কয়েকটি গ্রামের লোকজন তাদের বালু উত্তেলনে বাধা দিতে গেলে ফখর মিয়ার বাড়াটে লোকজন ১০/১২ গুলি করলে ভয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি এবং পরে আমরা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করলে সন্ধ্যায় তারা তাদের ড্রেজার সরিয়ে নেয়।
সন্ধায় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুরব্বি এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবী আমিনুল ইসলাম রাবেল, ইউপি সদস্য জালাল আহমদ, চুনু মিয়া, হানিফ খান ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের আস্বত্বের প্রেক্ষিতে এবং বালু উত্তোলনকারিরা সুরমা নদীর গোয়াসপুর, রুইগড় এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে নিলে স্থানীয়রা ব্যারিকেড তুলে নেন।
জানা যায়, উপজেলার গোলাপগঞ্জ সদর ইউপির রুইগড় ও গোয়াসপুর এলাকার সুরমা নদী থেকে শাসক দলের এক নেতা প্রায় এক মাস ধরে নিয়মনীতি মালার কোন তোয়াক্কা না করে তার বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রায় ৫/৬টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন ও রাত পালাক্রমে অভিরাম বালু উত্তোলন করছেন। ড্রেজারের বিকট শব্দে এলাকবাসীর ঘুম হারামের পাশাপাশি নদীর পাড়ের বাড়িঘর ও শতশত একর ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। একদিকে বন্যায় আক্রান্ত হয়ে নদীরপারের লোকজন চরম দুর্ভোগের কবলে রয়েছেন অপর দিকে বালু উত্তোলনকারি চক্র প্রায় এক মাস ধরে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয়রা এ নিয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশ করেছেন এবং উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শরণাপন্ন হলেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। স্থানীয় রুইগড় ও গোয়াসপুর এলাকার চুনু মিয়া, পঙ্খি মিয়া, জিহান আহমদ, পাখি মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, মাতাব আহমদ, জুনেদ আহমদ,সামছুল ইসলাম বাছন মিয়া জানান, গতকাল বালু উত্তোলনকারি চক্রকে বাধা প্রদান করলে প্রকাশ্যে তার দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে রুইগড় ও গোয়াসপুর এলাকার মানুষজন বালু উত্তোলকারিদের উপর হামলা চালালে তারা পালিয়ে গিয়ে সুরমা নদীর ওপারে জড়ো হয়ে বসেন। স্থানীয়রা অনড় অবস্থায় থেকে প্রশাসনকে জোর দাবি জানান সুরমা নদীর রুইগড় ও গোয়াসপুর এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন না সরানো পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না এবং বিকেল ৩ থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে করে এ সড়কের দু’দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়লে হাজারো যাত্রীবৃন্দ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কবলে পড়েন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নেয়ার পর সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয়রা। ১০/১২ রাউন্ড গুলির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছ থেকে শুনেছি। ঘটনা সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, বালু উত্তেলনকারী আকবর আলী ফখরের বৈধতা আছে। হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে তার। গ্রামবাসী হাইকোর্টে রিট করতে পারে। তবে স্থানীয়দের দাবী বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে একটি লিখিত পত্র আনলেও ওটা দেখেনি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।