এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল

১৯৩০ সালে ১৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ২১তম আসর বসেছিল রাশিয়ায়। গত মাসের ১৪ তারিখে শুরু হওয়া আসরের পর্দা নেমেছে ১৫ জুলাই রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। নানা কারণে এবারের বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফুটবলে চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইতালি এবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বাদ পড়েছে তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডস। আফ্রিকার ঝড় তোলা দেশ ক্যামেরুন ছিল না। বাদ পড়ে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা জেতা দল চিলিও। আফ্রিকার আরেক দেশ আইভরি কোস্ট ছিল না রাশিয়া বিশ্বকাপে। খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ঘানা ও চীন। রাশিয়া বিশ্বকাপের ঢেউ এসে লেগেছিল বাংলাদেশেও। এখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি। দুই দেশের পতাকার রঙে বাড়ি রং করা হয়েছে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ভক্তদের হতাশ করেছে উভয় দেশই। নিজেদের তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন মেসি-নেইমার। প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। চেনা তারকাদের অনেকেই জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হলেও অনেক নতুন তারকা খুঁজে পেয়েছে ফুটবল বিশ্ব। রাশিয়া বিশ্বকাপে উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি হচ্ছেন বিশ্বে কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয়, যিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করেছেন। পুরো বিশ্বকাপে তাঁর গতিময় ফুটবল সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এবারের আসরে চারটি গোল করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন একই দলের আন্তোনিও গ্রিয়েজমান ও পল পগবা। সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ। বেলজিয়ামের তারকা ফরোয়ার্ড এদেন আজার পেয়েছেন সিলভার বল, ফ্রান্সের আন্তোনিও গ্রিয়েজমান পেয়েছেন ব্রোঞ্জ বল। সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। গ্রিয়েজমান পেয়েছেন সিলভার বুট, ব্রোঞ্জ বুট পেয়েছেন বেলজিয়ামের লুকাকু।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপ ছিল নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ভরা। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দেওয়া এমন টুর্নামেন্ট নাকি নিকট অতীতে হয়নি। শুরুতেই বাদ পড়েছে জার্মানি। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে বিদায় করে দেয় ইউরোপের নতুন ফুটবল শক্তি বেলজিয়াম। তারকাসমৃদ্ধ স্পেন রাশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়। এবার ফাইনালে গোল হয়েছে ছয়টি। বিশ্বকাপে মোট আত্মঘাতী গোল হয়েছে ১২টি। এর মধ্যে ফাইনালে একটি আত্মঘাতী গোল হয়েছে। গোলরক্ষকের অদ্ভুত ভুলে গোল হয়েছে। যথেষ্ট নিরাপত্তা কড়াকড়ি থাকার পরও মাঠে লোক ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রবিবারের ফাইনালটি শুধু অল ইউরোপিয়ান লড়াই ছিল না। ছিল অল নাইকি লড়াইও। স্পন্সর কম্পানিগুলোর মধ্যে এবার বিশ্বকাপের ৩২ দলের মধ্যে ১২টির স্পন্সর ছিল অ্যাডিডাস, ১০টির স্পন্সর নাইকি। শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল নাইকি।
যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। শক্ত রক্ষণভাগ, আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠ ও ফরোয়ার্ডদের বোঝাপড়া দলকে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে। অভিনন্দন ফ্রান্স।