শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা

পুঁজিবাজার তথা শেয়ারবাজার এখনো এ দেশে ফাটকা বাজার হিসেবেই পরিচিত। অবশ্য অর্থমন্ত্রী এ কথা মানতে রাজি হবেন না। তাঁর মতে, যারা পুঁজিবাজারকে ফাটকা বাজার বলে তারা পুঁজিবাজারের শত্রু। তিনি যা-ই বলুন, মানুষ তো মন্ত্রীদের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী শব্দ বা পরিভাষা ব্যবহার করে না, তারা এসব ব্যবহার করে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যবস্থার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য দেখে। এ দেশে পুঁজিবাজারের যে আচরণ তাতে একে ফাটকা বাজার বলাই যুক্তিযুক্ত মনে হয় সাধারণ মানুষের কাছে। এর ক্রেতা-বিক্রেতা কারো আচরণই ‘ব্যাকরণসম্মত’ নয়; কোনো রীতিই এখানে ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে বাজার কাঠামোতে হস্ত সঞ্চালনে পটু ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (সিন্ডিকেট বলাই শ্রেয়) যেকোনো সময় শেয়ারবাজারে লাভের জোয়ার বইয়ে দিতে পারে, আবার একে লোকসানের চরায় পরিণত করতে পারে। বছর কয়েক আগের অভিজ্ঞতা এ কথাই বলে।
সেই মহা ধসের পর ক্রেতাদের আর ওই মাত্রায় আগ্রহী করা সম্ভব হয়নি। বাজার চলছে; কিন্তু পুঁজির লেনদেনে জোয়ার এখনো আসেনি। এর মধ্যে শেয়ারবাজার চাঙ্গা করার, নিয়মনিষ্ঠ করার কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারক সংস্থার পক্ষ থেকে। সেসবের প্রভাব যে নেই, তা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেনে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, তবে উৎফুল্ল হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। সম্প্রতি দেশের এ বাজারে যুক্ত হয়েছে চীন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এ সংশ্লিষ্টতার ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ খবর হলো, শেয়ার কেনার চাপে পুঁজিবাজারে লেনদেন ও মূল্যসূচক বেড়েছে। বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। প্রকৌশল খাতের কম্পানির শেয়ারের দামে উল্লম্ফন ঘটেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মূল্যসূচক ও লেনদেন বেড়েছে। ওই দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৮৮ কোটি টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৩০ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৩৭১ পয়েন্টে। লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বসুন্ধরা পেপার মিলস; লেনদেন হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের দিন সোমবার ডিএসইতে লেনদেন ছিল ৯০১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সূচক কমেছিল ২৪.৭ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯১১ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২৭১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। লেনদেনের ৩৩৯টি কম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ১৮৩টির, কমে ৯৯টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৫৭টি কম্পানির শেয়ারের দাম। প্রকৌশল খাতের ৮৩ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। সূচক বেড়েছে ৫৩ পয়েন্ট। লেনদেনের ২৫০টি কম্পানির মধ্যে দাম বাড়ে ১৫২টির, কমে ৭৩টির আর অপরিবর্তিত থাকে ২৫টি কম্পানির শেয়ারের দাম।
দামের, সূচকের উত্থান-পতনই শেয়ারবাজারের বৈশিষ্ট্য। তবে কোনোটিই যাতে অস্বাভাবিক হারে না হয়, সেদিক খেয়াল রাখাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ। মহা ধসের পর তারা সচেতন হয়েছে। এ সচেতনতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে; শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। তবেই মানুষ আবার আগ্রহী হবে।