পাঠ্যবই মুদ্রণে সিন্ডিকেট রোধ

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার। একই দিনে শুরু হচ্ছে শিক্ষাপঞ্জি। পরীক্ষা থেকে শুরু করে পুরো বছরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে। চলতি বছরকে ধরে নেওয়া হচ্ছে নির্বাচনের বছর হিসেবে। এ জন্য অন্য অনেক কাজের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপার কাজটিও আগাম করে রাখার চেষ্টা চলছে। সরকারের এই সদিচ্ছাকেই পুঁজি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় সাড়ে ১১ কোটি পাঠ্য বই মুদ্রিত হচ্ছে। এবারের মুদ্রণকাজে মুদ্রাকর ও প্রকাশকরা প্রথমবার যে দাম দেয়, তা প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১১১ কোটি টাকা বেশি। এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ পুনঃ দরপত্র আহ্বান করে। নতুন করে মুদ্রাকর ও প্রকাশকরা যে দর দেয় তাতে দেখা যাচ্ছে এই দরে বই ছাপলে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে সরকারের ব্যয় হবে কোটি টাকা বেশি। দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বানের পর দর বেশি দেওয়ায়ই বুঝতে পারা যাচ্ছে, মুদ্রাকর ও প্রকাশকদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা সরকারের সদিচ্ছাকে কেন্দ্র করে একটি বড় অঙ্কের ব্যবসা করতে চায়।
বই মুদ্রণের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গঠিত হওয়া এই সিন্ডিকেট এর আগেও এজাতীয় কাজ করেছে। গত বছর এই কাজই করা হয়েছিল ১৮ শতাংশ কম দামে। এবার প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হলে প্রায় সাড়ে ৪০০ প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হলে অংশ নেয় মাত্র ২৫০টি প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয়বার দরপত্রে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টিও এক ব্যাংকের একই শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সিন্ডিকেট একত্র হয়ে কাজটি করেছে। এখানে এনসিটিবিও অসহায় হয়ে পড়েছে।
কিন্তু বই ছাপার কাজে সরকারের এত বড় লোকসান হতে দেওয়া যায় না। যদিও এনসিটিবি বলছে, এখনো দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়নি। মূল্যায়নের কাজটি খুুব নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হবে। প্রয়োজনে সব দরপত্র বাতিল করে দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত দরপত্রে কাজ করতে আগ্রহী যোগ্য মুদ্রাকরদের আহ্বান করা যেতে পারে। তাতে মানসম্পন্ন বই শিক্ষার্থীদের হাতে যাবে। কোনো সিন্ডিকেটের কাছে এনসিটিবি সে ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে থাকবে না। আমরা আশা করব, বই মুদ্রণের কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এনসিটিবি।