১ কোটি টাকার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ॥ কানাইঘাট গৌরিপুর সুরমা ডাইকে নতুন করে ভাঙ্গনে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
কানাইঘাট উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ সুরমা নদীর ডান তীর বনগৌরিপুর হইতে কুওরগড়ি মন্দিরেরঘাট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সুরমা ডাইকে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস পূর্বে গৌরিপুর সুরমা ডাইকের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তার কয়েকটি অংশে মারাত্মক ভাঙ্গন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদী ভাঙ্গন ও বন্যার কবল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বালির বস্তা ও বাঁশের গড় মেরে অস্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হয়। সুরমা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে বন গৌরিপুর সুরমা ডাইকে প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে বন্যার হাত থেকে কানাইঘাট সহ পাশ্ববর্তী জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট এলাকার মানুষকে রক্ষা করার জন্য সচেতন মহল সরকারের প্রতি দাবী জানিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন জরুরী ভিত্তিতে গৌরিপুর সুরমা ডাইক রক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট কে নিদের্শ প্রদান করেন। এছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েকবার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন। গত এপ্রিল মাসে শুকনো মৌসুমে ভাঙ্গন কবলিত বনগৌরিপুর সুরমা ডাইক নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দু’টি প্রকল্পের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৭ শ মিটার লম্বা মাটির বাধ নির্মান কাজ শুরু করে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন উক্ত মাটির বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসী সোচ্চার হলে কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন মনগড়া ভাবে মাটির বাঁধের নি¤œমানের কাজ শেষ করে এলাকা থেকে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। বে-আইনী ভাবে এক্সবেটর দিয়ে বাঁধের পাশে গভীর গর্ত করে মাটি বাঁধের কাজ করায় সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে নির্মাণাধীন মাটির রক্ষা বাঁধের কাজের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে ও বাঁধের কাজ নীচু হওয়ায় উপর দিয়ে সুরমা নদীর পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায় নির্মাণাধীন সুরমা ডাইক রক্ষা বাঁধ অনেক জায়গায় তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে গৌরিপুর সুরমা ডাইক এলাকা পরিদর্শন করে মাটির রক্ষা বাঁধের কাজের ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। বিশেষ করে কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার মানুষের কাছে কোন ধরনের জবাব দিহিতা না করে অনেকের ফসলী জমি একেবারে বিনষ্ট করে। এক্সবেটর দিয়ে গভীর খনন করে মাটি উত্তোলন করে পাশেই রক্ষা বাঁধের প্রায় ১৭শ মিটার কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করায় বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর পানির তীব্র ¯্রােতের কারনে যে কোন সময় রক্ষাবাঁধের বেশির ভাগ কাজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে এলাকায় ভয়াভহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয় লোকজন জানান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোটি টাকার কাজের স্থলে ৩০/৩৫ লক্ষ টাকার কাজ করে চলে গেছে। এলাকার বাসীর দাবী যে ভাবে সুরমা নদীর ভয়াল ভাঙ্গনে বনগৌরিপুর হইতে কুওরগড়ি ও লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রাম পর্যন্ত ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে তা মাটির বাঁধের কাজ করে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গৌরিপুর সুরমা ডাইকের বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থাকায় দিন দিন ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। একমাত্র স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ ছাড়া এলাকার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগুরুত্বপূর্ণ বনগৌরিপুর সুরমা ডাইকের বিপদজনক ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বাধ নির্মাণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী গৌরিপুর সুরমা ডাইক ভাঙ্গন প্রতিরোধে মাটির বাঁধের নি¤œমানের কাজের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রকৌশলী আব্দুল লতিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মাটির বাঁধের কাজে কোন ধরনের অনিয়ম করা হলে কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে এখনো কাজের পুরো বিল প্রদান করা হয়নি বলে তিনি জানান।