নির্বাচনে জিততে গিয়ে দলের বদনাম করবেন না -প্রধানমন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
জাতীয় নির্বাচনের আগে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনগুলোতে দলের নেতা-কর্মীদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে জিততে গিয়ে দলের বদনাম করবেন না
শুক্রবার (২২ জুন) বিকেলে গণভবনে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভার সূচনায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনগুলোতে যাতে কোনো রকম বদনাম না হয়, কোনো রকম কোন্দল যেন না হয়-সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি এটাই বলবো, এই নির্বাচনগুলো আমরা হেরে গেলে আমাদের সিট (আসন) চলে যাবে তাও না। হারলে ইজ্জত চলে যাবে সেটাও না। আবার আমাদের জিততে যেয়ে যেনো কোনো রকম বদনাম যেন না হয়।
‘হারা জেতা নির্বাচনে থাকতে পারে। আপনারা এবার ফুটবল খেলায় দেখছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে- যাদের জেতার কথা তারাও অনেক সময় জেতে না। গোলই দিতে পারে না। এ রকমও হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই বিএনপির ১৫ ফেব্রুয়ারি বা মাগুরা মার্কা এ রকম যেনো না হয়। এটা সব দলের জন্য প্রযোজ্য। যারাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এটা সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ সে রকম হলে সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাটাকে শক্তিশালী করতে চাই।
‘আমরা চাই না কোনো নির্বাচন ওই মাগুরা মার্কা হোক বা ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো হোক। ঢাকা-১০ বা মিরপুরের নির্বাচনে তারা যেভাবে কারচুপি করেছে সে ধরনের নির্বাচন হোক তা আমরা চাই না।’
আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে জনগণের ভোটের অধিকার হিসেবে গণ্য করে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যখন মিলিটারি ডিকটেটররা ছিলো তখন তারা ভোট নিয়ে কারচুপি করা, কেন্দ্র দখল করা, সিল মারা, বাক্স ভাঙা অনেক কিছু তারা করে গেছে। আমরা কিন্তু চেষ্টা করেছি নির্বাচনে জনগণ যাতে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
‘আজকে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা হয়েছে। নির্বাচনকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগ কাজ করেছে,’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে উপ-নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ ৬ হাজারের মতো নির্বাচন হয়েছে। একটা নির্বাচন নিয়েও বিএনপি বা বিরোধীরা অভিযোগ দাঁড় করাতে পারে নাই।
আসন্ন নির্বাচনগুলোতে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের সকল নেতা-কর্মী কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক হয়ে কাজ করবে।
নেতা-কর্মীদের জনগণের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের আস্থা, ভোটারদের বিশ্বাস অর্জন করা। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মানুষের কাছে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে হবে। ভোট চাইতে হবে। তাদের বলতে হবে আমরা কি কি করেছি, আর কি কি করবো।
‘সবাই মিলে এক সঙ্গে কাজ করবেন যেন আমরা জয়ী হয়ে মানুষের সেবা করতে পারি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ১৪-১৫ সালে যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করে, তারা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে গেছে। আর কিছু না। এগুলো সবই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আমরা চাই না। এ ধরনের পরিবেশ থাকুক।
‘আমরা বাংলাদেশটাকে একটা শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন সিটি করপোরেশন ও এক উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নাম গণমাধ্যমকে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আসন্ন তিন সিটি করপোরেশনে নৌকা প্রতিকে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য রাজশাহীতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সিলেটে সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং বরিশাল সিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এছাড়া কুড়িগ্রাম-৩ উপ নির্বাচনে এম এ মতিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।