বানের পানিতে ভাসছে সিলেটের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ॥ ৫ জনের মৃত্যু ॥ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

জকিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন : জকিগঞ্জের পুরো উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত। সোমবার সকাল থেকে বন্যা পরিস্থিতি আংশিক উন্নতি হচ্ছে। জকিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৬ সেন্টিমিটিার এবং সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৪৫সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শতাধিক গ্রামের অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের একাধিক স্থানে ডুবে যাওয়ায় ঈদের দিন বিকেল থেকে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রবিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শণ করেছেন। বানবাসী অসহায় লোকজনের জন্য ২৭ টন ত্রাণ বরাদ্ধ করা হয়েছে বলে বিরোধীদলীয় হুইপ আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন এমপির সূত্রে জানাগেছে। অন্যদিকে বন্যা আক্রান্ত এলাকা জকিগঞ্জকে বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবীতে রবিবার জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে এ দাবী জানিয়েছেন। সোমবার সরেজমিন বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জকিগঞ্জ সদর, মানিকপুর, বারঠাকুরী, বারহাল, বীরশ্রী, কসকনপুর, কাজলসার ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার একাধিক ওয়ার্ড, সুলতানপুর ও খলাছড়া ইউনিয়ন আংশিক এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে অন্তত ২৫টি স্থান দিয়ে এবং ডাইক উপছে নানা স্থান দিয়ে পানি হু হু করে লোকালয়ে আসছে। সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় পানি আংশিক কমলে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
জকিগঞ্জ ডাকঘর, প্রানী সম্পদ অফিস, হাফছা মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন, কাজী খালিক উচ্চ বিদ্যালয়, লুৎফুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নান্দিশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ফুলতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনসুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছবড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিকপুর খ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব মাইজকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঙ্গবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রহিমখার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভরন মাদ্রাসা, ভাখরশাল মাদ্রাসা, আনোরাশী মাদ্রাসাসহ ইতিমধ্যে অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও মাদ্রাসায় পানি ঢুকেছে।
বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন জানান, গত বুধবার দিবাগত রাতে প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ভারতের বরাক ও লোভা নদী হয়ে আকষ্মিকভাবে জকিগঞ্জের সুরমা কুশিয়ারা নদীতে আসে। কিন্তু সুরমা কুশিয়ারা নদী থেকে হাওরের সাথে সংযোগকারী ৩৭টি খালনালা বন্ধ থাকায় এ দুটি নদীর পানি বিভিন্ন স্থানের ডাইক ভেঙ্গে জনবসতি প্লাবিত হয়। কয়েকটি খালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুইচ গেট বসানোর নামে নিজেদের পকেট ভারী করছে। সুইচ গেইট নির্মানের এক বছরের মধ্যেই সবকটি সুইচ গেট অকার্যকর হয়ে যায়। চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাইক মেরামতের প্রকল্প হাতে নিলেও কোন কাজ হয়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান সাংবাদিকদেরকে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা বারহাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মোস্তাক আহমদকে সাব ঠিকাদার দিয়েছিলো। তিনি কোনো কাজ করেননি। বন্যায় বিভিন্ন ফিসারীর অন্তত ১০ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। আউস ক্ষেত ও আমনের চারা, মৌসুমী শাক সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন দিক ভারত বেষ্টিত জকিগঞ্জের বারঠাকুরী, জকিগঞ্জ সদর ও মানিকপুর ইউনিয়নের একাংশের সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বানবাসী মানুষের খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের আশংকা করা হচ্ছে। বন্যার্ত কিছু মানুষ আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিলেও বেশির ভাগ মানুষ মাচার উপর বাস করছেন। রান্নার চুলা ও টয়লেটের সমস্যায় লোকজন বেশী অসহায় হয়ে পড়েছেন। ডাইকের সংস্কার কাজে জামায়াত নেতা অনিয়ম করেছেন এমন দাবী সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদও করেছেন। তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবী করে বারহাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মোস্তাক আহমদ জানান, আমি ২৮ টি স্পটের সাব ঠিকাদার ছিলাম। কয়েকটি স্পটে স্থানীয়রা কাজ করতে দেয়নি। যে কাজগুলো করেছি তা ভালো মানের কাজ করা হয়েছে। কাজের বিল এখনো পাইনি। উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ব্যক্তিগত বিরোধ থাকায় তিনি এখন আমাকে ফাঁসানো চেষ্ঠা করছেন।
জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে বন্যা আক্রান্ত এলাকার কিছু মানুষের মধ্যে ১ টন চাল বন্টন করা হয়েছে। যে পরিমান মানুষ বন্যা আক্রান্ত সেই পরিমান কোন বরাদ্ধ এখনো পাননি। দ্রুত ত্রাণ দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কুমার সিংহ জানান, উপজেলা সদরে বন্যা তথ্য কেন্দ্র খোলা হবে। বন্যার্তদের সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং এবং প্রতিটি ইউনিয়ন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হবে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান জকিগঞ্জের বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, সরেজমিন আসার কারণে জকিগঞ্জের বন্যার পুরোপুরি চিত্র দেখে গেলাম। সরকার সব ধরণের প্রয়োনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে শনিবার বিরোধীদলীয় হুইপ ও জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন এমপি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথে এবং সিলেটের জেলা প্রশাসককে জকিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। বন্যা কবলিত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে। ঝূঁকিপূর্ণ ডাইক এলাকা ঘুরে অধিক ঝূঁকিপূর্ণ পৌর এলাকার কেছরী ডাইকের কাজের জন্য তিনি তাৎক্ষণিক নিজের তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা দেন এবং প্রয়োজনে তিনি আরো দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন।
কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে কানাইঘাট উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলেও অবনতি হয়েছে সাতবাঁক ও দিঘীরপার ইউপির বন্যা পরিস্থিতির। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতবাঁক ও দিঘীরপার ইউপির বিস্তৃন এলাকা গত রবিবার থেকে নতুন করে বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ দু’টি ইউনিয়নের সমস্ত ফসলি জমির আউষ ধানের মাঠ তলিয়ে গেছে। পানি কমার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে সুরমা ডাইকে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গ্রামীন রাস্তাগুলো বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জন জনদূর্ভোগ বেড়েছে। এ দিকে কানাইঘাট উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি দেখার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সন্ধিপ কুমার সিং বন্যায় দূর্গত বিভিন্ন এলাকা গত রবিবার পরিদর্শন করেন। তিনি উপজেলার বড়চতুল, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম, কানাইঘাট সদর, ৪নং সাতবাঁক এবং ৩নং দিঘীরপার ইউপির সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ঘোরে দেখেন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি লুসিকান্ত হাজং এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে কানাইঘাটে ভয়াভহ বন্যা রূপ নেওয়ায় গোঠা উপজেলার গ্রামীন পাকা ও কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শত শত হেক্টরের আমন ধানের মাঠ তলিয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে মৎস্য সেক্টরে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি কমার সাথে সাথে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। এখনো হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। ঈদের আনন্দ ঠিকমতো করতে পারেনি পানিবন্দী মানুষ। বানের পানি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে পড়ে শত শত কাঁচা বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র জানিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার উজান থেকে নেমে আসা আকর্ষিক পাহাড়ী তীব্র ঢলে সুরমা নদীর ভয়াল আকার ধারন করায় পানি বিস্তৃন এলাকায় প্রবাহিত হয়ে সমস্ত ফসলি জমি, মৎস্য খামারগুলো তলিয়ে যাবার পাশাপাশি রাস্তাঘাটে কোটি কোটির টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অসংখ্য গ্রামের পুকুরগুলো ডুবে যাওয়ায় তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ দিকে সরকারী ভাবে উপজেলার বন্যা দূর্গত এলাকার পানিবন্দি মানুষের জন্য ২৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ও কানাইঘাট সদর ইউপিতে বন্যা দূর্গতদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সিলেট-৫ আসনের এমপি সেলিম উদ্দিন কানাইঘাটের বন্যা দূর্গতদের মাঝে চাল বিতরণের পাশাপাশি ৩৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট বিতরণ করবেন বলে নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা জানিয়েছেন। সরকারী ভাবে আরো ত্রানসামগ্রী ও নগদ টাকা আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাহাড়ি ঢলের কারনে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তানিয়া সুলতানা বলেন উপজেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে বানের পানি নেমে গেছে। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে যে ভাবে পানি আস্তে আস্তে নামছে সাথে সাথে ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে। পাহাড়ী ঢলের কারণে ভয়াভহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মৎস্য, কৃষি সেক্টরে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামীন এলাকার পাকা, কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ থেকে জানিয়েছেন : ধলাই ও মনু নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে গত পাঁচ দিনে ভয়াবহ বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ ৫ জন মারা গেছেন। সহ¯্রাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পাঁচশতাধিক টিবওয়েল অকেজো হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়া প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ চরম মানবেতরভাবে জীবন ধারণ করছেন। বন্যায় আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারে সর্বশেষ কয়েকটি স্থানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী। সরকারি ও বেসরকারি মৎস্য প্রদর্শনী খামারসহ দেড় হাজারেরও বেশি পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১২৫০ টি পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় নেয়া প্রায় ছয় হাজার মানুষকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংস্থা রান্নাবান্না করে ও শুকনো খাবার বিতরণ করছে। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার কার্যক্রমে রোববার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেছেন। সোমবার (১৮ জুন) বন্যাক্রান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্যানিটেশন এর যখেষ্ট অভাব রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ধলাই নদীর ৮টি স্থান দিয়ে ভাঙন দেখা দেয়ায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বনায় কমলগঞ্জ পৌরসভা, রহিমপুর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর, কমলগঞ্জ সদর, আলীনগর, আদমপুর, মাধবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বাড়িঘরে চার থেকে পাঁচ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হয়। এসব এলাকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। চারদিনের বন্যার প্রবল ¯্রােতে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের আব্দুল ছত্তার (৫০) ও তার ছেলে আব্দুল করিম (২৫), আলীনগর বস্তির পরিবহন শ্রমিক সেলিম মিয়া (৩৮), শমশেরনগর ভাদাইরদেউলের প্রতিবন্ধি রমজান আলী (৪০) ও রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাপী গ্রামে মিছির মিয়ার দেড় বছর বয়সি শিশু সন্তান ছাদির মিয়া পানিতে ডুবে মারা যান। পানির ¯্রােতে ভারতের কৈলাশহরে যাতায়াতে শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়কে কালভার্ট ব্রিজ ধ্বসে পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। শমশেরনগর-মৌলভীবাজার, শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়ক যোগাযোগ তিনদিন বন্ধ ছিল। আদমপুর, পৌরসভা, মুন্সীবাজার, পতনঊষার সহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা, আধাকাঁচা প্রায় সহ¯্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন সহ উপজেলায় ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয় এবং এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আসা লোকদের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি, বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যার শুরু থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। তবে নৌকা ও স্পিডবোট না থাকায় বেশ কিছু পরিবার বাড়িঘরে পানিতে আটকা পড়ায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বৃদ্ধি পায়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্যায় আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারে সর্বশেষ কয়েকটি স্থানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী টিম।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি’র উদ্যোগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কমলগঞ্জে বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকায় শুকনো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখছেন। এছাড়া কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ ও ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। ঢাকার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান, মুন্সীবাজারের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দীন, মুন্সীবাজার-রহিমপুর দরিদ্র কল্যাণ ট্রাষ্ট, কমলগঞ্জ সমাজ কল্যাণ পরিষদ, মীর্জাপুর নবীন সেবা সংঘ, মুন্সীবাজার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক’জন ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই পানিবন্দি গ্রামে গিয়ে ও আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এদিকে উপজেলার নব্বই শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মৎস্য প্রদর্শনী খামারসহ প্রায় ১,৫৫০টি পুকুর প্লাবিত হয়। ভেসে যাওয়া মাছ ও পোনার পরিমাণ প্রায় ৪৭০ মে.টন। খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার কোটি বিশ লক্ষ টাকা বলে মৎস্য অফিস সূত্র নিশ্চিত করে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার হেক্টর আউশ ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক পানিতে ডুবে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় সহ¯্রাধিক কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতে সরকারিভাবে বরাদ্ধ প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিহত পরিবারদের ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র ও বন্যাপ্লাবিত লোকদের মধ্যে অব্যাহতভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো জানান, বন্যাক্রান্ত কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রোববার থেকে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন উজানে ভারতীয় অংশে বৃষ্টিপাত না হলে বন্যা পরিস্থিতির পর্যায়ক্রমে উন্নতি হবে।
হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন : হবিগঞ্জের ৪টি উপজেলার ১০ লাখ মানুষের আতঙ্কের নাম এখন খোয়াই নদী। ঈদের দুদিন আগে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে। তবে নদীর টানে রবিবার বিকালে ও সন্ধ্যায় শহরের খোয়াই নদীর মাছুলিয়া এলাকার একাংশ হঠাৎ ধসে পড়েছে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ১০টি পরিবারের বাড়িঘর। তাদের স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাঁধ ভাঙার কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলীর আশঙ্কা, খুব দ্রুত বাঁধের ধসে যাওয়া অংশ মেরামত করা না হলে নদীতে জোয়ার এলেই বাঁধের অন্য অংশ ভেঙে আরও অনেক গ্রাম তলিয়ে যাবে।
সোমবার দুপুরে ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা বেগমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একই এলাকার কাঞ্চন মিয়া জানান, নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পাড় ভেঙে অসহায় গরিবদের অন্তত ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গৃহহারা পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙনের আশঙ্কায় খোয়াই নদীপারের বাসিন্দাদের সারাক্ষণ উদ্বেগে কাটে। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার অবলম্বন বিলীন হয়ে যাবে।
সূত্রমতে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য পার হয়ে বাল্লা সীমান্ত দিয়ে হবিগঞ্জে প্রবেশ করেছে খোয়াই নদী। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় শুরু হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ শহর ও বানিয়াচং উপজেলার একাংশের ওপর দিয়ে খোয়াই নদী বয়ে গেছে। এরমধ্যে হবিগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে হবিগঞ্জ শহর ও সদর উপজেলার বাসিন্দারা। নদীর চারপাশের অন্তত ১০ লাখ বাসিন্দার আতঙ্কের নাম এখন খোয়াই নদী।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভারতের উজানে দেওয়া বাঁধ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে পানি বাড়তে থাকে খোয়াই নদীতে। এ সময় নদীর গর্জনও বেড়ে যায়। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে নদীর পানি। নদীর দু’পাশে লোকজন রাত জেগে পাহারায় থাকে, যাতে রাতের অন্ধকারে বাঁধ ভেঙে না যায়। এই বাঁধ ভেঙে গেলে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খোয়াই নদীর অন্তত ৪ কিলোমিটার নদীর ফ্লাট বাঁধ শক্ত করে মেরামত করা হলে অন্তত শহরবাসী ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন। তা না হলে প্রতি বছর শহরবাসীকে আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাতে হবে।
খোয়াই নদীর পাড়ের বাসিন্দা ফুলবানু বেগম জানান, প্রতি বছর নদীতে পানি বাড়লে আমাদের আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়।
একই এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী জানান, যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে শহরের সব সরকারি বেসরকারি অফিস, আদালত, হাসপাতাল তলিয়ে যাবে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করা না হলে আমরা ঝুঁকিমুক্ত হতে পারবো না।
হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সেক্রেটারি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নানা অজুহাতে খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কার করছে না। এ কারণে খোয়াই নদী এখন মানুষের আতঙ্কের নাম হয়ে পড়ছে। নদীতে জোয়ার এলে বাঁধের চোরা গর্ত দিয়ে কিংবা নদীর তীর উপচে পানি প্রবেশ করে মানুষের ক্ষতি হয়। এ জন্য দ্রুত খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কার করতে হবে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, খুব দ্রুত ধসে পড়া খোয়াই নদীর বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ শহরবাসীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হলে শহরের মাছুলিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে শহরের কামড়াপুর ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফ্লাট বাঁধ তৈরি করতে হবে। ফ্লাট বাঁধ তৈরি করতে পারলে শহরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা বেগম জানান, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পরিবারগুলোকে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনিও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই ধসে পড়া বাঁধ সংস্কার করা হবে।
বিয়ানীবাজার থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন : বিয়ানীবাজার উপজেলা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার ১০৮ সেঃ উপরে। গতকাল রবিবার সিলেট জেলা প্রশাসক জনাব নুমেরী জামান বিয়ানীবাজার উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলার কুশিয়ারা নদী বেষ্টিত তিন ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত। গত ১৪ জুন(বৃহস্পতিবার) হঠাৎ নদীর ডাইক ভেঙ্গে জনবহুল এলাকায় পানি চলে আসে। মুহূর্তের ব্যবধানে কয়েকটি এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভারত ও বাংলাদেশের সিমান্ত এলাকার পানি (পাহাড়ি এলাকার) সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার আলীনগর ও চারখাই এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধিতে দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার,মাথিউরা ও পৌরসভার শ্রীধরা এলাকার মানুষ ক্ষতিগরস্ত হয়। বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার প্লাবনের শংকায় রয়েছে উপজেলার মুড়িয়া, তিলপাড়া, মাথিউরা ও মোল্লাপুর ইউনিয়নের অধিবাসীরা। মুড়িয়া হাওরে কুশিয়ারা পানির প্রবেশ করায় মুড়িয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর শাখা নদী লোলা গাঙ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় মাথিউরা, তিলাপাড়া ও মোল্লাপুর ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বলেন, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে দুপুরে বিপদ সীমার ১০৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এবং ধারণা করা হচ্ছে পানি আরোও বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কাকরদিয়া এলাকার অধিকাংশ বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আর পানি বৃদ্ধি পেলে ঘরে বসবাস করা কষ্টকর হবে।
বন্যা কবলিত এলাকার বাড়ি-ঘরে হাটু। এ অবস্থায় দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে শেষ দুই রোজা ও ঈদ কাটিয়েছেন অধিবাসীরা। ঘরে ভেতরে পানি উঠে যাওয়ায় চৌকি, খাট ও টেবিলের উপর জরুরী প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র রেখে কোন মতে জীবন ধারণ করছেন। মূল্যবান সামগ্রি তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে।
শুক্রবার,ও শনিবার, বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান ও পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে রবিবার সিলেট জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান উপজেলার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন।
তিনি আরোও বলেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের অধিবাসীরা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত এলাকা নদী থেকে ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে।