জকিগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারায় ভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী

জকিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
টানা বর্ষণ আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে দেশের সর্ব উত্তর-পূর্বের সীমান্তবর্তী জনপদ জকিগঞ্জে বন্যা দিয়েছে। ভারতের বরাক নদী দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ী ঢল বাংলাদেশের সুরমা-কুশিয়ারা নদীতে আসছে। এতে এ দুটি নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ও অর্ধ শতাধিক এলাকার তীর উপচে পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বন্যা কবলিত হয়েছেন উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩৫/৪০টি গ্রামের হাজার হাজার লোকজন। বিশেষ করে জকিগঞ্জ, বিরশ্রী, বারহাল, বারঠাকুরী কাজলসার ইউনিয়নের লোকজন বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ও তীর উপচে পানি ছড়িয়ে পড়েছে লোকালয়ে। এতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়ে দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের আউশ ক্ষেত। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। গ্রাম এলাকায় পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লোকজন বাড়ীঘর ছেড়ে গরু-ছাগল, হাঁস, মুরগীসহ গৃহপালিত পশু, পাখি নিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিচ্ছেন। বয়স্ক ও অসুস্থদের নিয়ে লোকজন দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে জকিগঞ্জ-সিলেট প্রধান সড়কের যোগাযোগ ব্যহৃত হওয়ার আশংকা রয়েছে। অনেক এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট কোমর পানিতে ডুবে আছে।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কুমার সিংহ জানিয়েছেন, ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকার বেড়ি বাঁধের উপর বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ি বাঁধগুলোও রক্ষা করতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যে স্থানগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেই স্থানের ভাঙন নিয়ন্ত্রনের বাইরে। যেখানে যেখানে তীর উপচে পানি আসছে সেই স্থানগুলোতে বস্তায় মাঠি ও বালু ভরে বাঁধ দেয়া হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, টানা বর্ষণে ও ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে মঙ্গলবার থেকে জকিগঞ্জের দুটি নদীতে পানি বৃদ্ধি হয়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে উপজেলার বিরশ্রী ইউপির রাধার বাজার, গড়েরগ্রাম, বারজনী, বড়চালিয়া, উজিরপুর, জামডহর, জকিগঞ্জ ইউনিয়নের মানিকপুর, মুমিনপুর, বারঠাকুরী ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি, উত্তরকুল, কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম, বারহাল ইউনিয়নের নূরনগর, চকগ্রাম, শরিফাবাদে ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়াও উপজেলার প্রায় ৩ শতাধিক স্থানে বেড়ী বাঁধের উপর দিয়ে পানি লোকালয়ে আসছে। এলাকার লোকজন এসব বেড়ী বাঁধের উপর বালু ভর্তি বস্তা ফেললেও পানির প্রবল স্রোতের কারণে তাতেও রক্ষা হচ্ছেনা। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে অন্তত অর্ধ শতাধিক গ্রাম। ভাঙনের খবর পেয়ে সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজন কমুার সিংহ ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানান, আকস্মিক বন্যায় বাড়ী ঘর তলিয়ে গেছে। সময় সময় বন্যার পানি বাড়ছে। বেড়ীঁ বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রনহীন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনের মধ্যে জ্বর সর্দি ও কাশি রোগ দেখা দিয়েছে। সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র খোলতে ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি লোকজন দাবী জানিয়েছেন।