খোশ আমদেদ মাহে রমজান

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আজ ২৫ রমজানুল মুবারক। আগামীকাল পবিত্র শবে-ক্বদর- কুরআন নাজিলের মহামর্যাদাপূর্ণ রজনী। আজ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের আদব ও বরকত সম্পর্কে ২/১ টি কথা। তেলাওয়াত শব্দের অর্থ পাঠ করা, অনুসরণ করা এবং অনুধাবন করা। আল্লাহপাক মাহে রমজানের পবিত্র শবে-ক্বদর রজনীতে কুরআন নাজিল করেছেন মানব জাতিকে সঠিক ও সৎপথ প্রদর্শনের জন্য। এ কুরআন মানুষের সামনে সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দ, জান্নাত-জাহান্নাম এবং ইহকাল-পরকাল সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা তুলে ধরেছে। আল-কুরআন মানব জাতির মুক্তির সনদ এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণের ধারক ও বাহক। মহানবী (স.)-এর নবুওয়্যাতের প্রধানতম দায়িত্ব ছিল কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করে শোনান, কুরআন মাজীদ শিক্ষা দেয়া এবং এরই ভিত্তিতে তাদের পরিশুদ্ধ করা। কুরআন মাজীদ সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভান্ডার। এমন কোন বিষয় নেই, যার তথ্য কুরআন মাজীদে পরিবেশিত হয়নি। একজন ফরাসী প-িত যথার্থই মন্তব্য করেছেন, ‘কুরআন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বিজ্ঞান সংস্থা, ভাষাবিদদের জন্য একটি শব্দকোষ, বৈয়াকরণের জন্য একখানা ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং বিধানের জন্য একটি বিশ্বকোষ।’ এসব বিষয়ে সম্যক উপলব্ধির জন্য কুরআন মাজীদের অর্থ অনুধাবন করতে হবে, এর উপস্থাপিত বিষয় নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে হবে এবং উন্মুক্ত অন্তরসহকারে এর পাঠে আত্মনিয়োগ করতে হবে। যারা এভাবে কুরআন তিলাওয়াত করে না, গভীর চিন্তায় নিজেদের নিমগ্ন করে না, তাদের অন্তর তালাবদ্ধ কিনা প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং আল্লাহপাক। (বিস্তারিত, সূরা মুহম্মদ : ২৪)। আসলে কুরআন নাযিলের প্রকৃত উদ্দেশ্য তখনই সাধিত হবে যখন আমরা একে বুঝে তিলাওয়াত করতে পারব।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং মধুর কণ্ঠের তিলাওয়াত শ্রবণ করেন। কুরআন তেলাওয়াতের ফযিলত অনেক। এ প্রসঙ্গে নবী করিম (স.) বলেন : যে ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, আসমানবাসীগণের নিকট সে ঘরটি এমন উজ্জ্বল দেখায় যেমন যমিনের অধিবাসীদের নিকট নক্ষত্ররাজি উজ্জ্বল দেখায়— (বায়হাকী)। এজন্য হজরত রাসূলে আকরাম (স.) ইরশাদ করেছেন: তোমরা আপন ঘরগুলোকে সালাত এবং কুরআন পাঠ দ্বারা আলোকোজ্জ্বল করে তোল— (বায়হাকী)।
কুরআন তিলাওয়াতের ওপর জাতির সফলতা নির্ভর করে। এ সফলতা তখন আসবে যখন আমরা কুরআনে বুঝে শুনে পড়ব এবং কুরআনের হুকুম সমাজে বাস্তবায়িত করব। কুরআন অধ্যয়ন করে যে ব্যক্তি কুরআনের ওপর আমল করবেন কিয়ামতের দিন তার মাতাপিতাকে এমন একটি মুকুট পরানো হবে যার কিরণ সূর্যের কিরণ অপেক্ষাও উজ্জ্বল হবে। আর আমলকারীর মর্যাদাও এত বেশি হবে যা আমরা এখন ভাবতেই পারি না।
আমাদের উচিত, নিত্যদিনের কাজের সঙ্গে কুরআন তিলাওয়াতকেও একটি দায়িত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গ্রহণ করা, এর অর্থ অনুধাবন করা এবং সে অনুসারে আমল করা। অবশ্য, ফজর কিম্বা ইশার সালাতের পর তিলাওয়াতের সুন্দর সময়। অন্তত সামান্যক্ষণ বসে হলেও আমাদের এ ব্যাপারে অভ্যস্থ হয়ে ওঠা উচিত।
উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত বা অধ্যয়ন অন্য দশটি বই-পুস্তক পড়ার মতো নয়। যেনতেনভাবে এটা পড়া যায় না, এতে আল্লাহর কালামের বেহুরমতি হয়। কুরআন পড়া শুধু ইবাদত নয়, বরং আফজালুল ইবাদত- উত্তম ইবাদতসমূহের একটি। আমাদের এজন্য পূতপবিত্র মন-মানসিকতা নিয়ে আল্লাহতায়ালার পাক কালাম স্পর্শ করা এবং আদবের সঙ্গে বসে তা তিলাওয়াত করা উচিত। একদিকে এর পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে শুদ্ধ তিলাওয়াতের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তবেই আমাদের জীবন-জগত, ইহ-পরকাল এ পবিত্র গ্রন্থের পরশে ধন্য ও বরকতময় হয়ে উঠবে।