খোশ আমদেদ মাহে রমজান

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আজ পবিত্র মাহে রমজানের ১৭ তম দিবস। রমজান ইবাদতের মাস, তাকওয়া অর্জনের মাস। আজকের এই দিনে হিজরী দ্বিতীয় সনে সংঘটিত হয়েছিল বদর যুদ্ধ। এ যুদ্ধ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে এবং সত্যিকার অর্থে মিথ্যার ওপর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাই, ১৭ রমজানকে ইতিহাসে বদর দিবসও বলা হয়। আল্লাহতায়ালা প্রায় ১০০০ সুসজ্জিত কাফের সৈন্যবাহিনীর মোকাবেলায় মাত্র শ’ তিনেক জিন্দাদিল মুমিন মুসলমানের বিজয় দান করে ইসলামের আধ্যাত্মিক শক্তিকে পরিস্ফুটিত করে তুলেছিলেন। সেদিন বিজয়ী সাহাবীদের চারিত্র্যিক মাধুর্য ছিল দৃঢ়তা, তাওয়াক্কুল ও পরিশুদ্ধ মন। আজকেও আমাদের সেই গুণেগুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে মাহে রমজানের সিয়াম সাধনায়।
মনকে পবিত্র করতে হবে, নিজের জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করার কৃতসংকল্প হতে হবে। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, একশ্রেণীর মুসলমান এ মাসে ইবাদত বন্দেগী ও দান সাদকায় যেমন অংশ নেন তেমনি অবৈধ পন্থায় রুজি রোজগার আর প্রতারণমূলক ব্যবসা বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায়ও অবতীর্ণ হয়। এ ধরনের বিপরীতমুখী চরিত্র ইসলামে কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এক স্থানে হযরত রাসূলে কারিম (স:) ইরশাদ করেছেন: বহু লোক দীর্ঘ সফর করে (পবিত্র মক্কা শরীফে) আসে এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে বলতে থাকে, ‘ইয়া পরওয়ার দিগার! ইয়া রব…।’ কিন্তু যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোশাক পরিচ্ছদ হারাম পয়সায় সংগৃহীত , এমতাবস্থায় তার দোয়া কি করে কবুল হতে পারে? (মুসলিম / তিরমিজী) ।
বস্তুত: শুধু হজ নয়, যে কোন ইবাদত বন্দেগী কবুলের জন্য হালার উপার্জন পূর্বশর্ত। আমরা এখন রমজানুল মোবারক অতিক্রম করে চলেছি। এ মাসের ইবাদত বন্দেগী কবুলের জন্যও কথাটি ষোলো আনা সত্য। এ মাসে একজন মুসলমান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সবচে বেশি ইবাদত রিয়াজতের কসরত করে থাকে। আর এখানে যদি হালাল-হারাম বাছবিচার করা না হয় তাহলে ইবাদত বন্দেগী কবুলে অন্তরায় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা অতি প্রবল।
কেননা, প্রবাদ আছে : বরবাদে গুলিস্তা কেলিয়ে, একই উল্লু কাফী হ্যায়! অর্থাৎ সুন্দর বাগান ধ্বংস করার জন্য একটি দুষ্ট বানরই যথেষ্ট।’ এ যেন বিরাট দুধের পাতে সামান্য টক মিশিয়ে নষ্ট করার মতো।
আমরা সবাই জানি, হালালের সংখ্যা অগণিত-বেশুমার। পক্ষান্তরে হারামের পরিমাণ খুব স্বল্প। কিন্তু মানব চরিত্র এমন যে, চিপা গলির দিকে পা বাড়ায়; যা এক পর্যায় ধ্বংসই নিয়ে আসে। আল্লাহতায়ালা স্পষ্টত বলেন, হে মানবমন্ডলী! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর। (২: ১৬৮)।। ইবাদত ও দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হিসেবে হালাল উপার্জনকে নির্ধারণ করে আল্লাহতায়ালা তাঁর নবী-রাসূলদেরও (অ:) নির্দেশ দিয়েছেন : ইয়া আইয়্যুহার রাসূল কুলু মিনাত ত্বোয়্যিবাত – ওহে আমার রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র খাদ্য গ্রহণ কর এবং নেক আমল কর।
আমরাও যেন এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির দিকে খেয়াল রেখে প্রয়োজনীয় আমল সম্পাদন করি। বরকতময় দিন ও মাসগুলোতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাই হারাম পথ বর্জনপূর্বক জীবিকা অর্জনের এবং অল্পে তুষ্ট থেকে জীবন ধারণের।
হকের পথে থাকি, সত্যের পথে থাকি। তাহলে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন অনিবার্য। এ হলো পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।