রিফাত ও সাম্পানসহ ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা ॥ জরিমানা থেকে বাঁচলো ৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

স্টাফ রিপোর্টার :
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অপরাধে নগরীর জিন্দাবাজারে রিফাত এন্ড কোং-কে আবারো জরিমানা করলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সাথে সাম্পান রেস্টুরেন্টকেও জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে জিন্দাবাজার এলাকায় জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম এ অভিযান চালায়। এ সময় ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত অপর মনিটরিং টিম নগরীর কাজলশাহ্ ও মেডিকেল রোড এলাকায় ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ থাকলেও কোন ধরনের জরিমানা করা হয়নি। শুধুমাত্র পরিদর্শন করে মান উন্নয়ন ও ক্রটি সারানোর সতর্কতা দিয়েই অভিযান সমাপ্ত হয়।
জানা গেছে, জিন্দাবাজার পয়েন্ট সংলগ্ন ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপননকারী প্রতিষ্ঠান রিফাত এন্ড কোং-কে মেয়াদোত্তীর্ণ দই এবং সস রাখার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার জিন্দাবাজারে সহির প্লাজাস্থ রিফাত এন্ড কোং-এর অপর শাখাকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, ফ্রিজে বিভিন্ন ধরণের সাবান রাখা ও মিষ্টিজাত দ্রব্যে মাছি বসার কারণে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ আইনে রিফাত এন্ড কোম্পানির ম্যানেজার শোভন আহমদ শুভ ও তার প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে পূর্ব-জিন্দাবাজারস্থ সাম্পান রেস্টুরেন্ট-কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মাংস রাখা ও মেয়াদোত্তীর্ণ সস রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৩ ধারায় এ জরিমানা গুনতে হয়েছে এই রেস্টুরেন্টকে। এছাড়াও জিন্দাবাজারের নেহার মার্কেটের বিপরীতে নামবিহীন একটি রেস্টুরেন্টকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালিক রুমাইয়ার নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় সিলেট জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর স্নিগ্ধেন্দু সরকার ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রমজানের শুরু থেকে পণ্যমূল্য ও মান তদারকিতে মাঠে নামে জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম। ৪টি দলে বিভক্ত হয়ে এই টিম প্রতিদিনই নগরীতে অভিযান চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার জিন্দাবাজারে অভিযান চালায়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কাজলশাহ্ ও মেডিকেল রোড এলাকার মেডিচেক সনো ল্যাব আলটাসনোগ্রাফি সেন্টার, পদ্মা কম্পিউটারাইজড ডায়াগনস্টিক সেন্টার , দেশ এক্স-রে এন্ড কম্পিউটারাইজড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডে বিভিন্ন অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ থাকলেও কোন ধরনের জরিমানা করা হয়নি। শুধুমাত্র পরিদর্শন করে মান উন্নয়ন ও ক্রটি সারানোর সতর্কতা দিয়েই অভিযান সমাপ্ত হয় করে বাজার মনিটরিং টিম।
এ সময় অভিযান পরিচালনায় ছিলেন- সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সন্দ্বীপ কুমার সিংহ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট বেসরকারি ল্যাবরেটরি ও ক্লিনিক মালিক এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ, ড্রাগ সুপার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ক্রিসেন্ট মেডিকেল সার্ভিসের চেয়ারম্যান জাকির আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
জানা গেছে, পদ্মা কম্পিউটারাইজড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ত্রুটিগুলোর মধ্যে ছিল এক্স-রে কক্ষ থেকে বাতাস নির্গমন হয় এবং ভেতরের পরিবেশ মানসম্মত ছিল না। দেশ এক্স-রে এন্ড কম্পিউটারাইজড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে কক্ষে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায় এবং সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এখানে অপরিস্কার ও অকেজো ফ্রিজে ঔষধ রাখা ছিল। এছাড়া এক্স-রে রুমের পাশেই বাথরুম রয়েছে সেটি সরানো, আলটাসনোগ্রাফ ও ইসিজি রুমের পাশে থাকা দৈনন্দিন ব্যবহারের কক্ষ সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয় ম্যানেজার রিংকু সাহাকে। সর্বোপরি তিনটিরই পরিবেশ উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের পরিবেশ ঠিক থাকলেও সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখা ছিল। সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এছাড়া মেডিনোভায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে একই কক্ষে পুরুষ-মহিলার এক্স-রে বেড দিয়ে কার্যক্রম চলছিল। সেটি আলাদা করার নির্দেশ দেওয়া হয় ম্যানেজার এম এ মতিন মাসুদকে। এই ক্রটিগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করা হবে অথবা লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে হুশিয়ারি দেয় বাজার মনিটরিং টিম।