Tag:

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আল্লাহ্তায়ালার রহমতে পবিত্র মাহে রমজানুল মোবারকের সিয়াম সাধনা শুরু করেছি। আকাশে বাঁকা চাঁদ মুচকি হাসার সঙ্গে সঙ্গেই মাহে রমজানের শুভাগমন ঘটল; শুরু হলো তারাবির সালাতের মাধ্যমে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেয়া। হেলাল বা নয়া চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সকলেই দু’হাত তুলে আল্লাহ্তায়ালার কাছে আকুতি জানিয়েছে: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু বিল আমানি ওয়াল ইমান, ওয়াস্ সালামাতি ওয়াল ইসলাম (হে পরওয়ার দিগারে আলম! এ নয়া চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা এবং ইমানের প্রতীক বানাও আর শান্তি ও ইসলামের পতাকাতলে শামিল হওয়ার ওয়াসিলা বানাও)।
মুমিন মুসলমানের কাছে আজ এক পরম আনন্দ ও তৃপ্তির মুহূর্ত, তারা আজ এক মহা অনুভব ও ইবাদত উপভোগের পুত সায়রে সন্তরণ শুরু করেছে। তারা এ মাসকে নিজের জীবন নিষ্পাপ-পুণ্যময় করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। তাই দেখা যায় মুসলিম সমাজের ঘরে ঘরে রমজানের সমাদর, রমজানের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার বিভিন্ন আয়োজন; এ মাসের মাহাত্ম্য, ফজিলত ও বরকত অর্জনের জন্য নানা আমল ও কর্মসূচী। ইতিহাসে আমরা দেখি সোনালি যুগের মুসলমানরা এ মাসকে যথাযথ ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত করার জন্য রজব মাস থেকে প্রস্তুতি নিতেন এবং তারা রজব থেকে মাহে রমজান পর্যন্ত পুণ্য অর্জনের যে অবারিত ধারা প্রবাহিত হয় তা পাওয়ার জন্য খোদাতায়ালার কাছে ফরিয়াদ করতেন এই বলে : আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান অর্থাৎ (হে আল্লাহ! আমাদেরকে পবিত্র রজব ও শাবান মাসে বরকত দান কর আর পবিত্র মাহে রমজান পর্যন্ত আমাদের পৌঁছে দাও)। তারা শাবান মাস থেকে অধিক পরিমাণে কোরান চর্চায় আত্মনিয়োগ করতেন, ধনীরা জাকাতের হিস্যা বের করে গরিবের মধ্যে বিতরণ শুরু করতেন। যাতে মাহে রমজানে সমাজে প্রত্যেকের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল থাকে এবং সিয়াম সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে পারে। বস্তুত, শুধু ব্যক্তি মুসলমানের জীবনে নয়, গোটা সমাজ সংশোধনে, কৃচ্ছ্রতার মাস, সংযমের মাস রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। কিন্তু আজ আমরা অতীত যুগের সোনার মানুষদের অনুসরণ করছি না বলেই সিয়ামের বরকত, রমজানের ফজিলত থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। রমজানুল মোবারক উপলক্ষে কোরান ও হাদিসে যেসব বাণী এসেছে তা সত্যিই একজন মুমিনকে সৎপথে জীবন রচনার এক দুর্দমনীয় প্রতিযোগিতায় উদ্বেলিত করে তোলে। আল্লাহ্ সুবহানাহুতায়ালা তার পবিত্র আখেরি কালাম কোরান মাজীদে ইরশাদ করেছেন: শাহরু রামাদানাল লাযী উনযিলা ফীহিল কুরআন হুদাললিন্নাসি ওয়া বায়্যিনাত…।
অর্থাৎ ‘রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরান, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে সে এ মাসে রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্যদিনে গণনা পূর্ণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না; যাতে তোমরা গণনা পূর্ণ কর এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুন আল্লাহ্তায়ালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর (আর) যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।
শুরুর দিনে আমাদের প্রত্যাশা, মাহে রমজান হোক মুমিন-মুত্তাকিগণের দীনতা-হীনতা দূরীকরণের সাক্ষী, রমজান হোক সকলের আত্মোপলব্ধিরÑ খোশ আমদেদ, মাহে রমজান আহলান ওয়া সাহলান। আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল সিয়ামানা ওয়া কিয়ামানা ওয়া রুকুআনা ওয়া সুজুদানা, ওয়া তিলা ওয়াতানা ওয়া তাসাবিহানা কামা তাকাব্বালতা মিন ইবাদিকাস সালিহীন: ওহে আল্লাহ! দয়া করে আমাদের রোজা, আমাদের নামাজকালাম, আমাদের রুকু, সিজদা, আমাদের তিলাওয়াত, তাসবিহ পূর্ববর্তী পুণ্যাত্মা মহান সৎকর্ম পরায়ণশীলদের ন্যায় কবুল কর। আমিন।