ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী ॥ সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন কর

কাজিরবাজার ডেস্ক :
উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহি ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির ইসিহাস ছাত্রলীগের ইতিহাস। প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রলীগের অবদানের দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ছাত্রলীগও ছিল। আন্দোলন গড়ে তোলায় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সেই সংগ্রামেও ছাত্রলীগ ছিল। ’৬৯ এর গণঅভ্যত্থানে ছাত্রলীগের ভূমিকা আছে। আমিও ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধেও এ সংগঠনের অবদান আছে। আমাদের বহু সহকর্মী প্রাণ দিয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ওবায়দুল কাদের, ছাত্রলীগের সহ সভাপতি এবং নতুন কমিটি নির্বাচনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন, সম্মেলন আয়োজক উপকমিটির আহবায়ক ছাত্রলীগ সহসভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন, অভ্যর্থনা উপকমিটির আহবায়ক ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা অনুষ্ঠানে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই তোমরা সমঝোতার মাধ্যমে তোমাদের নেতৃত্ব নির্বাচন কর। তিনি বলেন, ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দেওয়ার বয়স ২৭ বছর করা হয়েছিল। এই কমিটি ৯ মাস বেশি সময় থাকায় বয়স এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এদিকে ১ বছর বয়স বাড়ানোর কারণে এখন সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সীরা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোন প্রকার নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার এ ধরনের অপরাধ কোনভাবেই বরদাশত করবে না। তিনি বলেন, আমি আমাদের ছাত্রদের বলবো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের ভাংচুর করা চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করবে এটা আমি বরদাশত করবো না। তিনি আরও বলেন, কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেগুলো চালাতে সকল খরচ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
সরকার প্রধান বলেন, যদি কেউ ভাংচুর করে, সেখানে আমার কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি নির্দেশ রয়েছে- সে দলের হোক, আর যেই হোক কাউকে ছাড়া হবে না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত বাজিয়ে, পতাকা, পায়রা ও বেলুন উত্তোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্রলীগের দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তারও আগে আজ দুপুরের পর থেকেই নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে ঢুকতে শুরু করেন। এছাড়া বাদ্যের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হয় সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, গত ৩ বারের মতো এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ দু’নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের শীর্ষ পদের জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই কারণে সম্মেলনের প্রথম দিন শুক্রবার সারাদেশ থেকে আসা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ শনিবার ঘোষণা করা হবে কমিটির নতুন শীর্ষ নেতাদের নাম। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলন। শেখ হাসিনার নির্দেশে এ কমিটিগুলোও কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঘোষণা করা হবে। এবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য ৩ শতাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।