বাণিজ্যিক কূটনীতি বৃদ্ধি হউক

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তৈরি পোশাকসহ মোট রপ্তানির শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে সেখানে। এই সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্ত পূরণ করতে হবে তা বাংলাদেশের জন্য কঠিন নয়। এরই মধ্যে ইপিবি, ট্যারিফ কমিশন ও ব্যাবসায়িক সংগঠনগুলো চীনের শর্ত পর্যালোচনা করে বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট আপটার আওতায় বাংলাদেশ এখন চীনের বাজারে ৬০ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা পায়। চীনের কাছ থেকে সরাসরি শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধা পেলে আপটার আওতায় পাওয়া সুবিধা মিলবে না। কিন্তু কোনো রাজ্য সরকারের আরোপ করা কোনো কর বা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে না। কারণ চীনে রাজ্যভেদে কোনো শুল্ককর ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার আওতায় ১৭টি পণ্যের মধ্যে ১৫টির শতভাগ শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ যত আমদানি করেছে, তার শতকরা ২৫ ভাগের বেশি এসেছে চীন থেকে। গত অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে এক হাজার ১৯ কোটি ডলারের পণ্য। অন্যদিকে চীনে বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৯৫ কোটি ডলারের পণ্য। শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পেলে রপ্তানি আরো বাড়বে।
কয়েক বছর ধরেই চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এই বাজারে এখন শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে দেশটিতে রপ্তানি আরো বাড়বে। ওদিকে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ওই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও চুক্তি হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপারে চীনের আগ্রহ আছে। বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্যিক কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভেতর দিয়ে যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে পারলে উভয় দেশের জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারির নতুন নতুন দিগন্ত যাতে উন্মোচিত হয়, সেদিকেই আমাদের লক্ষ থাকা উচিত। নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হলে দুই দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। ভূরাজনৈতিক কারণেও বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গুরুত্ব বহন করে। সেদিক থেকে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য পরস্পরকে আরো কাছে টানতে পারে। আমরা আশা করতে পারি, উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে সচেষ্ট হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক চীনের বাজারে প্রবেশ করতে পারলে তার প্রভাবও আমাদের অর্থনীতিতে পড়বে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক কূটনীতি বাড়াতে তাই দৃষ্টি দিতে হবে।