বৈরী আবহাওয়ায় ম্লান হয়ে যাচ্ছে কৃষকের মুখে হাসি

তাহিরপুর থেকে সংবাদদাতা :
তাহিরপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে ও মাড়াইকৃত ধান শুকাতে না পেরে দিনদিন ম্লান হয়ে যাচ্ছে কৃষকের মুখের হাসি। সেই সাথে হাওর থেকে ধান কেটে মাড়াই খলা পর্যন্ত নিয়ে আসতে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে নানামুখী সমস্যায়। হাওরের আভ্যন্তরীণ সড়ক (জাঙ্গালগুলো) বৃষ্টিতে মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে পথে ভোগান্তির অন্ত নেই কৃষকের। এ রোদ এই মেঘের খেলাতে কৃষকরা অনোন্যপায় হয়ে সামান্য রোদ দেখে ধান শুকাতে মাড়াইকলাতে মেলে দিচ্ছেন ধান আবার পরক্ষণেই বৈশাখের হঠাৎ বৃষ্টিতে আবার বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে ধান। এ অবস্থা গত এক সপ্তাহ ধরে বিরাজমান হাওর উপজেলা তাহিরপুরে। আবহার এ বৈরী ভাব যদি আরও কিছুদিন থাকে তাহলে কৃষকরা যে ধান কেটে মাড়াই খলাতে শুকানোর অপেক্ষায় রেখে দিয়েছেন সে ধান এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। বর্তমানে প্রতিটি মাড়াই খলায় কৃষদের স্তুপাকৃত ধানে চারা জন্মাতে শুরু করেছে।
শনিবার দুপুরে শনির হাওরে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের সামনে বিভিন্ন মাড়াই খলাতে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। অনেকেই ধান শুকাতে রোদে দিয়েছিলেন কিন্তু আকাশে মেঘ দেখে তড়িঘড়ি করেও সামলে উঠতে পারছিলেন না। বৃষ্টিতে অনেক কৃষকরে ধান ভিজে গেছে। তাছাড়া প্রতিদিনই বৃষ্টির কারণে হাওর ধান কাটতে যাওয়া শ্রমিকরা সামন্য ধান কেটে ফিরে যাচ্ছেন। একেতো বৃষ্টি অপর দিকে বজ্রপাতের আশঙ্কাতো রয়েছেই।
সাথে গত ১০ দিনের বৈরী আবহাওয়ায় ভারী বৃষ্ঠিপাতে নষ্ট হয়ে গেছে হাওরের সবগুলো আভ্যন্তরীণ সড়ক। প্রথম দিকে হাওরের বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দিয়ে পিক আপ,ভানগাড়ী দিয়ে ধান পরিবহন করা গেলেও বর্তমানে কিছু দূর নৌকা ও কিছু দুর মহিষের গাড়ি কিংবা টেলা গাড়ি দিয়ে ধান পরিবহন করে মাড়াই খলাতে নিয়ে আসতে হচ্ছে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশী।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, রোদ দেখে ধান শুকাতে দিয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি চলে আসায় ধান ভিজে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক সজল রায় তিনি বলেন, হাওরের জাঙ্গালগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জাঙ্গালের মাথা পর্যন্ত নৌকা করে ধান নিয়ে যাচ্ছি বাকিটুকু ঠেলা গাড়িতে নিতে হবে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেরাহান উদ্দিন বলেন, রোদ না থাকায় কৃষকদের ভোগান্তি বেড়েছে। কৃষকরা ধান শুকাতেও পারছেন না ধান কাটতেও পারছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, চলতি বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের বিড়ম্বনা বেড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, হাওরের অভ্যন্তরীন সড়ক বা জাঙ্গাল গুলো পাকা করণ করতে পারলে কৃষদের কিছুটা উপকার হবে।
উল্লেখ্য চলতি বছর উপজেলা ২৩ টি ছোট বড় হাওরে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ১০ হাজার হেক্টরের মত জমির ধান কাটতে পেরেছে কৃষক। কিন্তু রোদ না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত অধিকাংশকৃষক ধান শুকাতে পারছেনা।