আইনি লড়াই ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্তির আর কোন পথ খোলা নেই -স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
একটি দুর্নীতি মামলায় প্রায় তিন মাস ধরে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা নেই বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শুক্রবার বিকালে ফরিদপুর কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়া অরফানেস ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। তার জামিন আবেদনের পাশাপাশি বিএনপি বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার পেছনে সরকারের কোনো হাত নেই। এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে তিনি জেলে আছেন। এটার বিচার করেছে আদালত। কিন্তু বিএনপি সরকারের প্রতি দায় চাপাচ্ছে। এই মামলাও আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলা দায়ের করে।’
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তারা এখন আন্দোলন-আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলনে কেউ সাড়া দেবে না। আন্দোলনে সাড়া দেওয়ার সময়ও নেই। সময় অনেক পেরিয়ে গেছে। জনগণ এখন নির্বাচনের মুডে আছে, আর তারা ডাক দিচ্ছে আন্দোলনের।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির সময়ও অনেক উন্নয়ন কর্মসূচি হয়েছে। তবে সেই উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের উন্নয়নই হয়েছে বেশি। ১০ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেও তিনি দেশের জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তাই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিন।’
কানাইপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সোবাহান, কোতোয়ালী আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা প্রমূখ।
এর আগে মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার সোবাহান ফাউন্ডেশন নির্মিত কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন তলা বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন করেন।