নির্বাচনে অংশ নেয়া কোন দলের নিজস্ব বিষয় -প্রধানমন্ত্রী

কাজিরবাজার ডেস্ক :
জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া কোনো দলের একান্তই নিজস্ব ব্যাপার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।
সদ্য সমাপ্ত সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এই কথা বলেন।
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে কি না, সেটা এখনও নিশ্চিত হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন, এটা হচ্ছে গণতন্ত্র। কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি করবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।’
‘একজনের দলীয় সিদ্ধান্ত তো আমি চাপিয়ে দিতে পারি না যে তোমাদের নির্বাচন করতেই হবে। তোমরা নির্বাচন কর, না করলে তোমাদের ধরে নিয়ে যাব জেলে। এটা বলব?’
‘২০১৪ সালের ইলেকশনে তারা আসেনি, নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।ৃ কে ইলেকশনে আসবে না আসবে তাদের ওপর নির্ভর করবে।’
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে সব সময় বৃহত্তম দল দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচন হলে জিতে অবশ্যই ক্ষমতায় আসব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এত উন্নয়ন করার পর যদি জনগণ ভোট না দেন আর যদি না আসতে পারিৃ ওইভাবে বাংলাদেশকে যদি ধ্ব্ংসের মুখে ঠেলে দিতে না চান, তাহলে নিশ্চয় আওয়ামী লীগকে সবাই ভোট দেবেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’
‘আর ইলেকশনে জেতাটা জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে তাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, মধ্যম আয়ের দেশ তো হবেই, উন্নত দেশ হবে।’
‘আওয়ামী লীগই সেটা করতে পারবে, আর কেউ পারবে ন্।া নইলে এতদিন ক্ষমতায় ছিল জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া। দেশের উন্নয়ন হয়নি কেন?’
‘খালেদাকে তো আমি জেলে নেইনি’
চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করলে ছাড়া নির্বাচনে না আসার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বিএনপি বলছে, তাদের নেত্রী মুক্ত না হলে তারা নির্বাচনে আসবে না। কিন্তু তাদের নেত্রীকে তো আমি জেলে পাঠাইনি।’
‘আমি যদি জেলে পাঠাতাম রাজনৈতিক কারণে, তাহলে পাঠাতাম ২০১৪, ১৫, ১৬। ২০১৫-১৬ সালে যখন মানুষ পুড়িয়ে যখন হত্যা করল, নিজেকেই নিজে অফিস রুমে অন্তরীণ করল। ৬৮ জন লোক নিয়ে এক বাড়ির মধ্যে। আর তখন মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করল। তখনই তাকে আমি আমি গ্রেপ্তার করতে পারতাম। কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে করতে চাইনি।’
‘তার ছেলে মারা গেল, আমি দেখতে গেলাম। দরজা বন্ধ করে দিল, আমাকে ঢুকতে দিল না। অন্য দেশ হলে কী করত? বাইরে গিয় একটা তালা দিয়ে দিত, যেন ওখান থেকে কেউ বের হতে না পারলে।’
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে হাসির রোল পড়ে যায়। আর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা করতে পারতাম।ৃ আমরা কিন্তু তাও করিনি।’
খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা মামলা, ১০টা বছর চলেছে, ১৫২ বা ১৫৪ বার সময় নিয়েছে তিনবার কোর্ট বদল হয়েছে, ২২ বার রিট হয়েছে।’
‘তারপরও বিএনপির এত বড় বড় লইয়ার, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ল ইয়ার আছে, তারাও প্রমাণ করতে পারল না যে খালেদা জিয়া এতিমখানার নামে টাকা এনে দুর্নীতি করেনি। কিন্তু তারা তো তা পারেনি।’
‘কোর্ট রায় দিয়েছে, আমাদের কাছে দাবি করলে তো চলবে না। যেখানে কোর্ট রায় দিয়েছে, আইনগতভাবে সে কারাগারে গিয়েছে। আইননগতভাবেই ফাইটব্যাক করতে হবে। আমাদের কাছে দাবি করে কী লাভ হবে? আমি কী করতে পারব?’।