সাইবার নিরাপত্তা আইন জরুরী

বর্তমান সরকার যেসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তার একটি হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি। এ খাতে দেশ যথেষ্ট এগিয়ে গেছে। মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট। সহজলভ্য তথ্য-প্রযুক্তির সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ। দ্রুত সম্প্রসারণশীল এ মাধ্যম আবার ব্যবহৃত হচ্ছে মন্দ কাজেও। বাড়ছে সাইবার ক্রাইম বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ। প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। সামাজিক নানা অপরাধের সঙ্গে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। জঙ্গি কর্মকাণ্ড সংগঠিত ও সংঘটিত করার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি। এসব থেকে মুক্তি পেতে দেশে সত্যিকারার্থে একটি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট থাকা প্রয়োজন, এটা মানতে হবে। কিন্তু এমন একটি আইন করতে গিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে তা গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩২ ও ৪৩ ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদ তাদের আপত্তি ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে তিন মন্ত্রীকে। গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসে সম্পাদক পরিষদ। আপত্তিগুলো ‘অনেকাংশে যৌক্তিক’ উল্লেখ করে আগামী ২২ এপ্রিল সংসদীয় কমিটির সভায় সেগুলো উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা যে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদন করে, তা গত ৯ এপ্রিল সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী। খসড়া আইনটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে। প্রস্তাবিত আইনটির ৩২ ধারার সমালোচনাও হয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, আইনটি পাস হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হবে। ওই ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী, এমন দাবি গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের।
তবে এটিও ঠিক যে দেশে একটি সাইবার নিরাপত্তা আইন থাকা দরকার। অন্যথায় সাইবার অপরাধ রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে আইনটি এমন হওয়া উচিত, যাতে তা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না করে।