বরইকান্দিতে ডাবল মার্ডার মামলা ॥ আদালতে আত্মসমর্পণকারী ৪৯ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ

স্টাফ রিপোর্টার :
দক্ষিণ সুরমা বরইকান্দি এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হওয়া শ্রমিক লীগ ও যুবলীগ নেতা হত্যার দায়েরকৃত মামলায় আত্মসমর্পণকারী ৪৯ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক মো: মামুনুর রহমান সিদ্দিকী জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কাগারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে আদালতে ৫১ আসামিকে হাজির করা হলে তাদের মধ্যে অপর এজাহারনামীয় আসামী ফটিক আহমদ (৫৫) ও হাবিবুর রহমান (৬২) বৃদ্ধ ও রোগাক্রান্ত থাকার কারণে এ ২ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী।
জেলে প্রেরণকৃত আসামীরা হচ্ছে- কাজী ফরহাদ (৩২), কাজী নুমান আহমদ (৩০), ফারহান আহমদ (২৭), কাজী মঈনুল (৩৭), রায়হান আহমদ (৩০), সাহান আহমদ (৩০), রাজিকুর রহমান রাজীক (৩০), জাকির আহমদ (২৮), ছাবিক আহমদ (৩০), সাহেল আহমদ (২৮), মুন্না আহমদ (২৮), মান্না আহমদ (২৮), সুজন উল্লাহ (৪০), সেলিম ড্রাইভার (৪২), আমজদ (৩৫), ফয়সল আহমদ (৩০), আলা উদ্দিন (২৮), রাজন মিয়া (৪২), ছাদেক মিয়া ড্রাইভার (৫২), লায়েক আহমদ (৩০), ইকবাল আহমদ (২৭), লিমন আহমদ (৩৩), টিপু আহমদ (৩৮), রোমান মিয়া (৪২), কাশেম মিয়া (৩০), খছরু মিয়া (৫৫), মো: কাচা মিয়া (৫৩), মুকিত মিয়া (৩০), শহিদ মিয়া (২৭), শফিক মিয়া (৫০), ইরা মিয়া (৫৬), লায়েক আহমদ (৩২), জুয়েল আহমদ (৩৫), তারেক আহমদ (৩০), তায়েফ আহমদ (২৬), ফয়জুর রহমান (৫৫), জাকের রহমান (২৮), আফসর আহমদ (৩০), মো: জাহাঙ্গীর (২৬), সোহেল আহমদ (৩০), তারেক (২৩), লুৎফুর (৪০), জাফর আহমদ (৩৫), এহসানুল হক সানু (৩৫), সাহেল শাহ (৩০), আলী আব্বাছ (২৪), আলী বক্র (২৬), বিল্লাল (২৪) ও জাহাঙ্গীর (২৮)। এরা সবাই এজাহারনামীয় আসামী ছিল। এর মধ্যে বেশীরভাগ আসামীদের বাড়ি বরইকান্দি এলাকায়। এনিয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৫৭ আসামী বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। মামলায় মোট আসামী ১১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৭০০/৮০০ রয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট সামিউল হোসেনসহ অর্ধশত আইনজীবী আসামীদেরপক্ষে জামিন শুনানীতে আদালতে অংশগ্রহণ করেন। এ মামলায় আগামী ৬ মে পরবর্তী ধায্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ সকালে দক্ষিণ সুরমা বরইকান্দি এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কোম্পানীগঞ্জের তেলিখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলফু মিয়ার পক্ষের লোকজনের গুলিতে বরইকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গৌছ মিয়া পক্ষের শ্রমিক লীগ নেতা মাসুক মিয়া ও যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়া নিহত হন। গুলিবিদ্ধ ১৭ জনসহ আহত হন অনন্ত: ২৫ জন। এ দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় সেবুল আহমদ ও রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।