নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ পালিত

স্টাফ রিপোর্টার :
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে (১৪২৫ বঙ্গাব্দ) বর্ষবরণ পালিত হয়েছে। নতুন বছরকে বরণ করে চারিদিকে ঢাকঢোল বাদ্যের সুর, নাচ-গান, কবিতা আর যত অনুষ্ঠানের সব আয়োজন ছিল বর্ষবরণে। নববর্ষের সাজে বেরিয়েছিল কিশোর-কিশোরীর দল। রাঙিয়ে ছিল রাজপথ মঙ্গল শোভাযাত্রায়। পুরনো জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আজি নতুনের আহ্বানে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সিলেটে চলে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ।
গত শনিবার ঊষালগ্নে সিলেটে কালবৈশাখী ঝড় হানা দিলে বর্ষবরণের প্রস্তুতি ম্লান হবার আশঙ্কা উঁকি দেয়। অবশ্য বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রং বদলায় আকাশের। ফর্সা হতে থাকে আকাশের রং। তখন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রাটি নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় উদীচী মিরাবাজার থেকে ও রং পেন্সিল একাডেমি’র আয়োজনে শোভাযাত্রা ধোপাদীঘির পার থেকে বের হয়ে নগরী প্রদক্ষিণ করে। মদনমোহন কলেজের আয়োজনে বের হয় আলাদা শোভাযাত্রা। ঢাকের তালে আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সংযোজন ছিল শোভাযাত্রায়। এর আগে সকালে শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে আনন্দলোকের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন লোকগানে একুশে পদকপ্রাপ্ত সুষমা দাস। নববর্ষকে বরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলে সিলেটে। জেলা প্রশাসন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলে।
নগরীর ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘সূচি’র উদ্যোগে চলে বর্ষবরণ। শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে চলে আনন্দলোকের নাচ গান ও কবিতার আসর। পাঠশালার আয়োজনে নগরীর কাজিটুলা সড়কে বিকেল ৩টায় শুরু হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন পরিষদের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বর্ষবরণের আয়োজন করে। এছাড়াও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী চলে বর্ষবরণ উৎসব। বছরের প্রথম দিনে প্রথা অনুযায়ী মনিপুরীদের আয়োজনে থাকবে পাঁচদিনব্যাপী পাশা খেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সিলেটের লাক্কাতুড়া চা বাগান এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় চড়ক পূজা।
এদিকে, সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হোটেল রেস্তোরাঁগুলো ব্যতিক্রমী সাজে সাজানো হয়েছিল পহেলা বৈশাখে। নামি-দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে মধ্যম সারির রেস্তোরাঁগুলোতে পান্তা-ইলিশের ভোজ রাখা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতি : বাংলা বর্ষবরণ ১৪২৫ উদযাপন ও টাঙ্গাইল জেলা সমিতির প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের দিনে সিলেট নগরীতে আনন্দ র‌্যালি বের করেছে সিলেটস্থ টাঙ্গাইল জেলা সমিতি। একই সাথে সমিতির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেককাটা এবং আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নগরীর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন মেডিকেল কোয়ার্টার প্রাঙ্গনে কেককাটার পর র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ফের সেখানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে পান্তা-ইলিশ দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করানো হয়।
সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। বর্ষপূর্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন সমিতির সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন এবং সদস্য সচিব ছিলেন সমিতির অর্থ সম্পাদক সোলায়মনা খাঁন মিল্টন।
অনুষ্ঠানে সমিতির কার্যকরী পরিষদের সহ-সভাপতি ইয়াছিস আকরাম, ড. আতিকুজ্জামান, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজমা আকতার, আইটি সম্পাদক নাজমুল ইসলাম নিপু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রুবেন, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, কার্যকরী সদস্য আজাদ কামাল, মেহেদী হাসানসহ সমিতির আজীবন সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা সমাজসেবা : বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ। এ উপলক্ষে গত শনিবার আবহমান বাংলা ও বাঙালির সেই সুবর্ণ দিনে বাঙালির সর্বজনীন উৎসব পয়লা বৈশাখ এ পুরাতন ও জীর্ণতাকে অতিক্রম করে নতুন ও পরিবর্তনকে আহবান জানানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বর্ষ বরণ র‌্যালি সহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করে সমাজসেবা পরিবার। সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে বাগবাড়িস্থ সমাজকল্যাণ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে ছিল সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু পরিবারের সাংস্কৃতিক দল ও সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন-সংগীত শিল্পীবৃন্দের অংশ গ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নিবাসী ওঅতিথিদের জন্য উন্নত বৈশাখী খাবার। এতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সৈয়দা ফেরদাউস আক্তার, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক নিবাস রজ্ঞন দাশ, বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ পরিচালক আবদুর রফিক, জেলা পরিষদ সদস্য রওশন জেবিন রুবা, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সালমা বাছিত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ভবতোষ বর্ম্মন, শ্রমিক লীগ নেতা জাফর চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক এম আহমদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এ কে আজাদ ভূইয়া, প্রবেশন অফিসার তমির হোসেন চৌধুরী, শহর সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল হক, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু সাঈদ মিয়া, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তানজিলা তাসনিম প্রমুখ।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি : নান্দনিক আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বরণ করেছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পরিবার। নাচ, গান, কৌতুক, মেলা, পান্তা ইলিশ সবই ছিল সে আয়োজনে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বর্ষবরণ উৎসবে রঙিন ছিল মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস। সিলেট শহরতলির বটেশ্বরস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারি সবার মিলনমেলা বসেছিল নববর্ষের উৎসবে।
বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরে সাজ সাজ রব বিরাজ করছিল মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে। চলছিল নানা প্রস্তুতি। সেই সাজ সাজ রবের প্রতিফলন দেখা গেল শনিবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এদিন সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে ভিড় করতে থাকেন সবাই। একের পর এক চলতে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধনে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) তারেক ইসলাম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল গান, স্ট্যান্ডআপ কমেডি, গীতিনাট্য, পুঁথিপাঠ, বৃষ্টিবন্দনা, নাটক, নৃত্য, প্রভৃতি। বৈশাখী মেলায় ছিল বিভিন্ন রকমের স্টল। ঐতিহ্যের ঘ্রাণ, আইও আইও চটপটি হাউজ, জাদুর বাক্স, টুফা, বাঙালি পিঠা ঘর, পান্তুয়া, হরেক রকম প্রভৃতি বাহারি নামের স্টলে দিনভরই ছিল উপচেপড়া ভিড়। এছাড়া এমইউ স্পোর্টস ক্লাবের আয়োজনে লাটিম খেলা, মার্বেল দৌড়, মোরগ লড়াই, সাপের খেলা প্রভৃতি খেলাগুলোও ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। নাচ, গান প্রভৃতিতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকরাও সমানতালে অংশগ্রহণ করেন।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির এই বৈশাখী আয়োজন উপভোগ করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ফজলুর রব তানভীর, আইন ও বিচার বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন, ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তাহের বিল্লাল খলিফা, সহকারি রেজিস্ট্রার লোকমান আহমদ চৌধুরী, সহকারি প্রক্টর এডভোকেট মো. আব্বাছ উদ্দিন প্রমুখ উপভোগ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি, শিক্ষার্থী সবাই উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই স্বপরিবারে বৈশাখী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
দোয়ারাবাজার থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় দোয়াবাজারে নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। পুরাতন জীর্ণতাকে ছিন্ন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ১৪২৫ বঙ্গাব্দ কে বরণ করে নিতে সর্বত্র ছিল উচ্ছ্বাসের আমেজ। শনিবার দিনব্যাপি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ষ বরণ ও হাওরপারের গ্রামে গ্রামে নবান্ন অনুষ্ঠান গুলো যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়। নব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় ভ্রাম্যমান রেস্তেুারায় বাঙালি ঐতিহ্য পান্তা-ইলিশের ছিল সমাহার। প্রতিটি হাটবাজারের হোটেল-রেস্তুরায় ঐতিহ্যের অন্য রকম ছোঁয়া লাগে পান্তা-ইলিশ খাবারে। সারা দিন ছিল প্রত্যন্ত এলাকার আবাল-বৃদ্ধা, বণিতা এবং শিশুদের মধ্যে লক্ষ্যকরা গেছে উৎসব মুখর পরিবেশ।
সকালে বাংলা নববর্ষ ক্লে¬¬¬¬ বরণ করে নিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালি পরবর্তী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজের সভাপতিত্বে ও মেহেরুল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে আন্তরিক ভাবে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখে দাঁড়িয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতিক। অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলায় অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার সর্ব বৃহৎ ‘বৈশাখী মেলা’। মেলায় সারা দিন উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ঐতিহাসিক টেংরাটিলা বৈশাখী মেলা উপভোগ করতে সকাল থেকে প্রত্যন্ত এলাকা হতে উৎসুক মানুষজন ছুটে আসেন। দিনব্যাপি সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান, খেলা-ধুলা ও হরেক রকম ষ্টল শোভা পায় বৈশাখী মেলায়। বিকালে মেলায় এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক।
উপজেলার অন্যতম পর্যটন এলাকা বাঁশতলা-হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ, মিতালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বাংলাবাজার হাসপাতাল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ‘বৈশাখী মেলা।’ মেলা গুলোতে দিনব্যাপি আলোচনসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা-ধুলা সহ খাবার খেলনা দোকানে উৎসুক জনতার ঢল নামে। এছাড়া প্রত্যন্ত হাওর এলাকায় নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কৃষক-কৃষাণীরা সোনালী ফসল ধান কেটে পালন করেন নবান্ন অনুষ্ঠান। বাংলা বর্ষ কে বরণ করে নিতে সর্বত্র ছিল অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধির শ্লোগান। সবাই দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার অকুন্ঠ আহবান।
কমলগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হয়। শনিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন চত্বরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমেদ ও থানার ওসি মো: মোকতাদির হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। পরে উপজেলা কমলগঞ্জ পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন চত্বরের ভিতর দিনব্যাপী মেলাও বসে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে শমশেরনগর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলে বর্ষ বরণের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের শিশু শিল্পীরা এ অনুষ্ঠানে নৃত্য ও গান পরিবেশন করে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এক সাথে মধ্যাহ্ন ভোজ সম্পন্ন করেন।
শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজেও মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে কলেজের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শাহীন কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী মেলাও বসে। তাছাড়া পতনউষার ইউনিয়নের শহীদনগর বাজারে শাপলা সবুজ সংঘের উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাংলা পুঞ্জিকাকে অনুসরণ করে কমলগঞ্জের চা বাগানগুলিতে রোববার (১৫ এপ্রিল) বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নব বর্ষকে বরণ করে। তার সাথে হিন্দু ধর্মীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রোববার শুভ হালখাতার মাধ্যমে বর্ষ বরণ করা হয়।