সিঙ্গাপুর সফর সফল হউক

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষেপ করে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আসার আগে তিনি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত বোটানিক্যাল গার্ডেনের অর্কিড গার্ডেনে তাঁর নামে একটি অর্কিডের উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সিঙ্গাপুর সফর নানা কারণে উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সময়কে ধরে নেওয়া হয় অর্থনৈতিক কূটনীতির সময় হিসেবে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে সিঙ্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই সফরের সময় চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এগুলো হচ্ছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও বিমান চলাচলে সহযোগিতা। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ ও সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজের মধ্যে ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ট্রান্সফরমেশন বিষয়ে একটি এবং এফবিসিসিআই ও এমসিসিআইয়ের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশনের দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট ভবন ইস্তানায় এক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর উন্নয়নে ভিন্ন পর্যায়ে অবস্থান করলেও সমৃদ্ধি অর্জনে দুই দেশের শক্তির জায়গাগুলো পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। দেশের জনশক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছে। পরিকল্পিতভাবে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি সংগ্রহ করলে তা দুই দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে ৫০০ একর জমি দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন তা হলো, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে বোঝানোর বিষয়। তিনি সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তা যে বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা, সে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
কিন্তু তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে। সিঙ্গাপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সিঙ্গাপুর এখন আসিয়ানের চেয়ার। আসিয়ানের অন্য সদস্য দেশ মিয়ানমার। চেয়ার হিসেবে আসিয়ানের সদস্য দেশকে বিষয়টি বোঝানোর দায়িত্ব নিতে পারে সিঙ্গাপুর। সেদিকেই গুরুত্ব আরোপ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে সিঙ্গাপুরের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কূটনৈতিকভাবে সব সমস্যার সমাধান যেমন সম্ভব, তেমনি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই দেশের বন্ধুত্ব আরো দৃঢ় করতে পারে। শেখ হাসিনার সিঙ্গাপুর সফরের ভেতর দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক যেমন দৃঢ় হবে, তেমনি সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।