শালিকাকে ধর্ষণের দায়ে দুলাভাইর যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার :
জৈন্তাপুরে শালিকাকে ধর্ষণের দায়েরকৃত মামলায় দুলাভাইকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে আরো ২টি ধারায় ১৫ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত ও শিশু আদালতের বিচারক এ. এম. জুলফিকার হায়াত এ রায় প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর নাম- জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিন (৩২)। সে জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর কাঞ্জর গ্রামের কুতুব আলীর পুত্র। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার বাঘেরখাল দলইপাড়ার মো: মুকবুল আলী তার তৃতীয় মেয়েকে জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়। জমিরের পরিবারে একটি ছেলেও রয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে জমির তার স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। শ্বশুর বাড়িতে ৩ দিন থাকার পর জমির ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর তার বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শালিকাকে (১০) তার বাড়িতে নিয়ে আসে। ২দিন পর শালিকা তার বাড়িতে থাকার পর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার জমির আলী বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে তার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে শালিকাকে পৌছে দেয়ার কথা বলে বের হয়। ওইদিন জমির আলী শ্বশুর বাড়িতে তাকে পৌছে না দিয়ে সিলেটের একটি হোটেলে নিয়ে শ্যালিকাকে জোরপূর্বক রাতভর ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে জমির শালিকাকে জৈন্তাপুরের একটি বাসে তুলে দেয় এবং সে তার বাড়ি পৌছে ধর্ষণের বিষয়টি তার পরিবারকে বলে। পরে তার পিতা তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা মো: মুকবুল আলী বাদি হয়ে জৈন্তাপুর থানায় একমাত্র জামাতা জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনকে আসামী করে জৈন্তাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-১১ (২০-১০-২০১৫)। শিশু মামলার নং- ১৫/১৬।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারী জৈন্তাপুর থানার এসআই (নি:) মো: আবদুল মান্নান একমাত্র আসামী জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং একই বছরের ২ জুন থেকে আদালত এ মামলার বিচারকার্য শুরু করেন।
দীর্ঘ শুনানী ও ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামী জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন ও ৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং পেনাল কোড এর ৩২৩ ধারায় তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও আসামীপক্ষে এডভোকেট মো: আনছারুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।